মহালয়া ঘিরে পঞ্চগড়ের আউলিয়ার ঘাটে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
রাজিউর রহমান
আউলিয়ার ঘাট থেকে
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮: ৪০

মহালয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার আউলিয়ার ঘাটে নৌকায় করতোয়া নদী পার হচ্ছেন পুণ্যার্থীরা। আজ রোববার দুপুরের ছবি:
ঘাটের দুই প্রান্তে অবস্থান করছেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। তাদের সঙ্গে কাজ করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও সেচ্ছাসেবকেরা। প্রস্তুত রয়েছে ডুবুরি দল। চারটি নৌকায় সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ জন করে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে এবং প্রতিটি নৌকায় রাখা হয়েছে লাইফ জ্যাকেট। যাত্রী ও মাঝিদের সতর্কতার সঙ্গে পারাপারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছে।
আজ রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামহাট ইউনিয়নের করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাটে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মন্দির ও মহালয়ার আয়োজন
করতোয়া নদীর এই ঘাট পেরিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের ত্রিস্রোতা মহাপীঠধাম শ্রীশ্রী বোদেশ্বরী শক্তিপীঠ মন্দির। আজ সকাল থেকে দেবী দুর্গার আবাহন উপলক্ষে সেখানে মাতৃপূজা, শ্রী শিবপূজা, শ্রী বিষ্ণুপূজা ও চণ্ডিপাঠের মাধ্যমে মহালয়া পালিত হচ্ছে। ভক্ত-পুণ্যার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে মন্দির চত্বর।
২০২২ সালের সেই মর্মান্তিক ঘটনা
২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার দিনে করতোয়া নদীর এই ঘাটে একটি মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। সেদিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে গেলে ৭১ জনের মৃত্যু হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন সরেন্দ্র নাথ বর্মণ (৬৩) নামের একজন। সেই ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মহালয়া ঘিরে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা।
নৌকাডুবির ঘটনার পর আউলিয়ার ঘাটে প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ওয়াই আকৃতির সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে নির্মাণকাজ এখনো শেষ না হওয়ায় এবারও পুণ্যার্থীদের নৌকাতেই পার হতে হচ্ছে। অনেকেই নদীপথ এড়িয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেশি পথ ঘুরে সড়কপথে যাতায়াত করছেন।

ঘাটে রাখা লাইফ জ্যাকেট
ছবি:
পুণ্যার্থী শান্ত রায় বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম সেতু হয়ে গেছে। এসে দেখি, এখনো নৌকায় পার হতে হচ্ছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতা দেখে ভালো লেগেছে। ২০২২ সালে যদি এমন ব্যবস্থা থাকত, তাহলে হয়তো সেই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।”
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম জানান, মহালয়া উপলক্ষে পুণ্যার্থীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঘাট ও মন্দির এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও সহায়তা করছে। মন্দিরের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াত থেকেও স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন।
