ডাকসু নির্বাচন: কেউ ‘আহত’, কেউ ‘সন্তুষ্ট’– স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভিন্ন গল্প
কেউ হতাশায় দেশ ছাড়ার কথা বলেছেন, আবার কেউ অপ্রত্যাশিত সাফল্য ও সন্তুষ্টি নিয়ে কথা বলেছেন। আসিফ হাওলাদার

ঢাকা
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯: ১১
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো ফল করে সন্তুষ্ট, আবার কেউ ভোট কম পেয়ে হতাশ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটযুদ্ধে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
ইউটিউবার শামীম হোসেন: স্বপ্নভঙ্গ ও হতাশা
ইউটিউব ও ফেসবুকে ইংরেজি ভাষার জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিত শামীম হোসেন ডাকসুর ভিপি (সহসভাপতি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচনের আগে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হলেও তিনি ৩ হাজার ৮৮৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
ভোটের পর তিনি বলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে, রাজনীতিতে এথিকসের (নৈতিকতা) বিষয়টি পুরোপুরি মিসিং (হারিয়ে যাওয়া) হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে আমার পড়াশোনায় ফিরে যাওয়া উচিত এবং যত দ্রুত সম্ভব দেশ ছাড়া উচিত।” তিনি ভবিষ্যতে এডুকেশন সাইকোলজি বা এ ধরনের বিষয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
আরাফাত চৌধুরী: অপ্রত্যাশিত ফল ও কারচুপির অভিযোগ
জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন আইন বিভাগের ছাত্র আরাফাত চৌধুরী। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা মঞ্চ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাঁর মোটামুটি পরিচিতি ছিল। প্রচারে খুব বেশি আলোচনায় না এলেও তিনি ৪ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন।
আরাফাত ভোটের ফলাফলে ‘একপক্ষীয়ভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “আমি বেশ কিছু অসংগতি চিহ্নিত করেছি। সংখ্যাগত দিক থেকে কারচুপিটা করা হয়েছে।” তিনি ভোট প্রদানের সংখ্যা, পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন।
সানজিদা আহমেদ: দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটে জয়
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্রলীগের হামলায় আহত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ছাত্রী সানজিদা আহমেদ (তন্বি) ডাকসু নির্বাচনে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁর রক্তাক্ত মুখমণ্ডলের ছবি অভ্যুত্থানের অন্যতম ‘আইকন’ হয়ে ওঠে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদসহ কয়েকটি প্যানেল তাঁকে সমর্থন জানিয়ে এই পদে প্রার্থী দেয়নি।
ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, সানজিদা ১১ হাজার ৭৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা এবারের ডাকসু নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তিনি বলেন, “আমি সচেতনভাবেই গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলাম। নির্বাচনী প্রচারে সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীই আমার প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রেখেছে, সে জন্যই আমি ভোটে জিততে পেরেছি।”
বাকিদের গল্প: ভিন্ন কৌশল, ভিন্ন ফলাফল
ডাকসুর সদস্য পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া ৪ হাজার ২০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। অন্যদিকে, জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশিকুর রহমান তাঁর ব্যতিক্রমী প্রচার কৌশল (‘দাঁড়াইছে সবাই, বসে আছে একজনই’) দিয়ে আলোচনায় এলেও পেয়েছেন মাত্র ৫২৬ ভোট। তবে তিনি এই ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট এবং বলেন, “আমি যে পরিশ্রম করেছি, সে অনুযায়ী আমার প্রাপ্ত ভোট ঠিক আছে।” (https://www.du.ac.bd/
