অন্যায় ও মিথ্যার বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়তে শিখিয়েছে এই আন্দোলন: অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ

​রাশিদ আহমেদ নিসর্গ, ময়মনসিংহ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, “ইসলামী আন্দোলন আমাদেরকে শাহাদাতের মর্যাদা অর্জনের পথ দেখিয়েছে, দাওয়াতি কাজের গতি জুগিয়েছে এবং হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার চেতনার সৃষ্টি করেছে। এই আন্দোলন আমাদের অন্যায়, অসত্য ও মিথ্যার বিরুদ্ধে আপোষহীনভাবে লড়াই করার শিক্ষা দিয়েছে। আমরা কখনো কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।”

​আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) ময়মনসিংহ নগরীর ‘এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে’ ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​তাকওয়াভিত্তিক সমাজ ও বিচারব্যবস্থার গুরুত্ব

​ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমীর মোঃ আব্দুল করিম-এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত রুকন সম্মেলনে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোনো দুনিয়াবি স্বার্থ বা পদ-পদবি পাওয়ার জন্য গঠন হয়নি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য অর্জন করা—যার নাম ঈমান ও তাকওয়া। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাকওয়ার ভিত্তিতে সমাজ, বিচারবিভাগ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইসলামী আন্দোলনের সর্বস্তরের কর্মীদের জীবনে এই তাকওয়ার অনুশীলন নিশ্চিত করতে হবে।”

​তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “সাহাবিদের যুগে অন্যায়ের সাথে কোনো আপোষ ছিল না। এমনকি খলিফা হযরত আলীর (রা.) চুরি হওয়া বর্মের বিচারেও আপনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি—এই হলো বিচারিক ইসলাম। আজ সামান্য কিছু না পেলেই আমাদের অনুযোগ তৈরি হয়, যা ইসলামী আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী।”

​ইতিহাসের শিক্ষা ও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা

​ইসলামী আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি তাবুক যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তাবুক যুদ্ধে সাহাবিরা শত কষ্ট সত্ত্বেও কেবল ঈমান ও তাকওয়ার জোরে বিজয় অর্জন করেছিলেন। ৬০০ কিলোমিটার দূরের সেই অসম লড়াইয়ে মহান আল্লাহ তাআলা বিনা যুদ্ধেই মুমিনদের বিজয় দান করেছিলেন।”

​সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণ ও পদ-পদবির বিষয়ে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “জামায়াতে ইসলামী এমন একটি দল, যেখানে কেউ নিজে থেকে পদের আকঙ্ক্ষা প্রকাশ করে না। আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নির্দেশ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি পদের আকাঙ্ক্ষা করে, সে-ই এর সবচেয়ে অযোগ্য। সারা দেশে বর্তমানে জেলা ও মহানগর আমীর নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়ায় সংগঠনের মূল চেতনা ধরে রাখতে হবে। যেখানে কোনো বিচ্যুতি ঘটবে, তা ব্যক্তি বিশেষের ব্যর্থতা, সংগঠনের নয়।”

​দাওয়াতি তৎপরতা জোরদারের আহ্বান

​দলীয় কর্মীদের তৃণমূল পর্যায়ে দাওয়াতি কাজ সম্প্রসারণের তাগিদ দিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, “আমাদের প্রধান কাজ হবে দাওয়াতি তৎপরতার মাধ্যমে মানুষের মনোজগতে ইসলামের সঠিক আদর্শ পৌঁছে দেওয়া। প্রতিটি থানায় ও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক দাওয়াত, কুরআন ও আদর্শের প্রচারে নেমে পড়তে হবে। কর্মীদের নিজেদের মধ্যকার হিংসা, বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা এবং পারস্পরিক মতভেদ ভুলে গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।”

​রুকন সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. ছামিউল হক ফারুকী। এছাড়া সম্মেলনে ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ, থানা আমীর, ইউনিয়ন আমীর ও সভাপতি এবং বিপুল সংখ্যক রুকন উপস্থিত ছিলেন।