দৈনিক জাহান ডেস্ক

ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতি ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও বন্ডের সুদহার একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে, যা নতুন করে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কা বাড়িয়েছে।
ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান ও আলোচনার পূর্বাভাস
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান সম্প্রতি সাত দিনের একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা পেশ করে, যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় উন্মুক্ত করা। তবে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি।”
যদিও পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা আবার শুরু হতে পারে। তবে তিনি যোগ করেন, ইরান নিজেদের অবস্থান মাত্রাতিরিক্ত কঠোর করে ফেলেছে এবং যে শর্তে তারা চুক্তি করতে চায়, তাতে যুক্তরাষ্ট্র রাজি নয়।
কৌশলগত প্রণালী ও ইরানের কড়া শর্ত
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা তুঙ্গে। পাশাপাশি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালী হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় আন্তর্জাতিক নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে।
ইরান অবশ্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে কয়েকটি কঠোর শর্তে অনড় রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্তি দেওয়া, ইরানি তেলের ওপর থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা তোলা এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা।
১০৬ ডলার ছাড়াল তেলের দাম, শেয়ারবাজারে দরপতন
যুদ্ধবিরতির গুঞ্জনে গত সপ্তাহে তেলের দাম কিছুটা কমলেও ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের পর নতুন সপ্তাহের শুরুতেই তা আবার বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
জ্বালানির দাম বাড়ার খবরে সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক কমেছে ২ শতাংশের বেশি। এছাড়া টোকিও, সাংহাই, ম্যানিলা, ব্যাংকক ও জাকার্তার বাজারেও পতন দেখা গেছে। তবে হংকং, সিডনি ও সিঙ্গাপুরের বাজারে সূচক কিছুটা ইতিবাচক ছিল।
২০০৭ সালের পর বন্ডের সুদে রেকর্ড ও ফেড-এর নজর
ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক বন্ডবাজারে গড় সুদের হার ৪ শতাংশের উপরে উঠে গেছে—২০০৭ সালের পর যা সর্বোচ্চ।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ আগামী অক্টোবরের শেষদিকের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাময়িক যে স্বস্তির আশা করা হয়েছিল তা ব্যাহত হলেও, বাজার এখনও আশা করছে যে উভয় পক্ষ শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরতে পারে।