ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়ন, ফাইল ছবি

“শিক্ষাগত যোগ্যতার নকল সনদে এমপি হলেন নুরুল ইসলাম নয়ন”: হাইকোর্টে রিট

বাংলাদেশ

ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম নয়নের নির্বাচনী হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার নকল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল ও সংশ্লিষ্ট সনদের বিষয়ে ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন ওই আসনের ভোটার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ।

রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট রাফসান আল আলভী। রিটে শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য ও সনদ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি এ বিষয়ে অনুসন্ধানের আবেদন জানানো হয়েছে।

হলফনামায় এমবিএর সনদ

রিটে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৪ আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচিত নুরুল ইসলাম নয়ন নির্বাচনী হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) উল্লেখ করেন।

হলফনামায় ইবাইস ইউনিভার্সিটির নামে ‘মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উইথ মেজর ইন ম্যানেজমেন্ট’ শিরোনামের একটি সনদ দাখিল করা হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। সনদে সিজিপিএ ৩.২৮ এবং নভেম্বর ২০০৮-এর তারিখ রয়েছে।

ইবাইস ইউনিভার্সিটির বক্তব্য

রিটকারীর দাবি, সনদটির বিষয়ে ইবাইস ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, ওই সনদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি। রিটকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আলমগীর হোসেনের লিখিত বক্তব্যও রিটের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে ইবাইস ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোতালেব তালুকদার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট নথি বা ফাইল না দেখে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া ঠিক হবে না; অফিস সময়ে যোগাযোগ করলে নথি দেখে সঠিক তথ্য জানানো যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নিয়েও অভিযোগ

রিটে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নুরুল ইসলাম নয়ন বিভিন্ন বক্তব্য ও পরিচিতিতে নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের কথাও তিনি বলেছেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটকারীর দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে ইংরেজি বিভাগে মো. মহিউদ্দিন মিয়ার ছেলে ‘মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম’ নামে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০১৮ ও ২০২৬ সালের হলফনামা

রিটকারীর অভিযোগ, ২০১৮ সালে নির্বাচনী হলফনামায় নুরুল ইসলাম নয়ন তাঁর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘এমএ’ বা মাস্টার অব আর্টস উল্লেখ করেছিলেন। ২০২৬ সালের হলফনামায় সেটি পরিবর্তিত হয়ে ‘এমবিএ’ হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে আবেদন, পরে হাইকোর্টে রিট

রিটের নথি অনুযায়ী, ২৫ অগস্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলেন রিটকারী। পরে ৩১ অগস্ট রিটের এফিডেভিট করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি।

আদালতে শুনানি

বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ১৫ সেপ্টেম্বর রিটটি ওঠে। প্রকাশিত আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে রিটটির পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে ভিন্ন বিবরণ এসেছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুনানি পরবর্তী সময়ের জন্য রাখা হয়েছে; অন্য প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপক্ষের সময়সংক্রান্ত আপত্তি এবং রিট খারিজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আত্মপক্ষ সমর্থনে নুরুল ইসলাম নয়নের বক্তব্য

নুরুল ইসলাম নয়নের আইনজীবী মনির হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করেন এবং এই রিটও সেই ষড়যন্ত্রের অংশ। তাঁর বক্তব্য, রিটের যথেষ্ট ভিত্তি না থাকায় আদালত তা খারিজ করেছেন।

এখন নজর আদালতের দিকে

রিটকারীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য, রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান এবং নুরুল ইসলাম নয়নের পক্ষের বক্তব্য—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন আদালতের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। পরবর্তী আদালতীয় আদেশ ও সিদ্ধান্তের দিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

রিটে উত্থাপিত অভিযোগের আইনগত পরিণতি এবং সংসদ সদস্য পদ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *