মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ী উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হলে আজ মোঃ শাহ আলমগীর (২৩) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর কুর্মিটোলার সিটি কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত শাহ আলমগীর উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামের মোঃ নূরুল হকের ছেলে।
দুই দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রানীচাপুর গ্রামে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর ধারাবাহিকতায় পরদিন বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উভয় পক্ষ ফের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
দিনভর থেমে থেমে চলা এ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। তবে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে শাহ আলমগীরের শারীরিক অবস্থার অবক্ষয় ঘটলে তাঁকে ঢাকার কুর্মিটোলার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় তথ্য
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংঘর্ষে লিপ্ত দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে একদিকে ছিলেন চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমানের অনুসারীরা এবং অন্যদিকে ছিলেন চাকুয়া ইউনিয়ন শ্রমিকদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিগেল মিয়ার অনুসারীরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে খালিয়াজুরী উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, লিগেল মিয়া ইউনিয়ন শ্রমিকদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং তাঁর বাবা মো. জালাল মিয়া উপজেলা কৃষকদলের সদস্য।
থানায় দুটি মামলা ও পুলিশের বক্তব্য
সংঘর্ষের খবর পেয়ে খালিয়াজুরী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
নিহত শাহ আলমগীরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন জানান—
”সংঘর্ষের কারণ ও ঘটনা সম্পর্কে একাধিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই থানায় পৃথক দুটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশি তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
