ময়মনসিংহে জমি বিরোধের সালিশের পরদিন যুবককে কুপিয়ে হত্যা; দোকানে ঢুকে হামলা
রাশিদ আহমেদ নিসর্গ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় দিনদুপুরে দোকানের ভেতরে ঢুকে মো: রাব্বি (৩১) নামের এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত ছয় বছরের পুরোনো বিরোধ সালিশ-বৈঠকে মীমাংসা হওয়ার মাত্র একদিন পরই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মাসকান্দা পাসপোর্ট অফিসের সামনে ‘আকাশ কম্পিউটার’ নামের একটি দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
দোকানে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা, ছোট ভাই আহত
নিহতের পারিবারিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে রাব্বি ও তাঁর ছোট ভাই রিয়াদ মাসকান্দা পাসপোর্ট অফিসের সামনের কম্পিউটারের দোকানে বসে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ হাবিব ও লিটন নামের দুই ব্যক্তি রাব্বির অবস্থান নিশ্চিত করার পরপরই ফজলুল হকের দুই ছেলে সাব্বির ও খালেক দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে রাব্বির ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায় এবং কুপিয়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
এ সময় বড় ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছোট ভাই রিয়াদও গুরুতর আহত হন। তাঁর বাম হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। নিহত রাব্বি নগরীর ২১৬/মাসকান্দা হাফেজ মন্ডলবাড়ী এলাকার জেলা পরিষদ স্কুল রোডের মোঃ মোবারক হোসেনের ছেলে।
নিহত রাব্বির চাচা রুহুল আমিন জানান—
”জমি নিয়ে বিরোধটি গত ছয় বছর ধরে চলছিল। বুধবার (১২ আগস্ট) ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলু উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার একটি সামাজিক মীমাংসা করে দেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার ভান করে পরদিনই তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে রাব্বিকে হত্যা করল।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিদর্শনের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, র্যাব-১৪ এবং জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান সাংবাদিকদের জানান—
”ঘটনার সাথে যারা সরাসরি জড়িত, প্রাথমিক তদন্তে আমরা তাদের নাম-পরিচয় পেয়েছি। ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।”
হামলায় আহত ছোট ভাই রিয়াদ ও নিহতের পরিবার অভিযোগ করে জানান, জমি সংক্রান্ত এই রক্তক্ষয়ী বিরোধ ও হত্যাকাণ্ডের সাথে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলু, ফজলুল হক ও তাঁর দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল খালেক ছাড়াও হাবিব, লিটন, হীরা, আতিক এবং হাবিবের আপন ভাগিনাসহ কয়েকজন জড়িত রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
