কলমাকান্দা থানার ওসির কথিত অডিও ভাইরাল: প্রত্যাহার ও তদন্ত কমিটি গঠন
মো. ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের একটি কথিত অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার পর পরই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। একই সঙ্গে অডিওটির সত্যতা ও এর ভেতরের বিষয়বস্তু পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের অডিওতে কী ছিল?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত আটটার পর প্রায় ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে একজন ব্যক্তিকে অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিতে শোনা যায়। সেখানে পুলিশের চাকরিকে ‘ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ (এক ধরনের ব্যবসা) হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তি ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বেশ কিছু বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে শোনা যায়।
অডিওতে আরও বলা হয়, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বজায় রেখে চলতে হবে এবং (আর্থিক দিক থেকে) কেউ যেন বঞ্চিত না হন। একই সঙ্গে ‘হক মারা’ প্রসঙ্গ টেনে অসাধু ও অসৎ আচরণ থেকে বিরত থাকার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
“বক্তব্যটি আমার নয়” — ওসির দাবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই অডিও রেকর্ডটি সম্পূর্ণ নিজের বলে অস্বীকার করেছেন ওসি মো. আবুল হাশেম। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন,
“কীভাবে বা কারা এ ধরনের বক্তব্য আমার নামে প্রচার করছে, তা আমি জানি না। আমি এমন কোনো কথা বা মন্তব্য কোথাও বলেছি বলে আমার মনে হয় না। বিষয়টি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই প্রথম জানতে পেরেছি।”
তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
এদিকে ওসির কথিত অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নেয় জেলা পুলিশ প্রশাসন। দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে ওসি আবুল হাশেমকে কলমাকান্দা থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। একই সাথে ঘটনার সঠিক তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে জেলা পুলিশের অবস্থান ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স)। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অনিয়ম কিংবা অসদাচরণ প্রমাণিত হলে কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
