শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে সেটাই হবে সফলতার মূল সূচক: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

রাশেদ আহমেদ নিসর্গ , ময়মনসিংহ

রবিবার (১৭ মে ২০২৬) ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘প্রাথমিক স্তরে বাংলা ভাষার দক্ষতা উন্নয়ন পাইলটিং কার্যক্রম বেইসলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং’ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থে শিখতে পারে। শুধু পাস করা বা মুখস্থ করা নয়, শিক্ষার্থীরা দিনশেষে কতটুকু শিখছে এবং তা প্রয়োগ করতে পারছে— সেটাই হবে আমাদের সফলতার মূল সূচক।

বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি ও চার ভাষাগত দক্ষতার গুরুত্ব

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে হলে সবার আগে কারিকুলাম সঠিকভাবে ডিজাইন করতে হবে। তিনি প্রাথমিক শিক্ষায় ‘আর্লি লার্নিং’ বা প্রাথমিক বয়সের শেখার বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভাষা শিক্ষা ও মৌলিক গণিত দক্ষতা অর্জন। শুনে বোঝা, বলে বোঝানো, পড়ে বোঝা এবং লিখে বোঝানো— এই চারটি প্রধান ভাষাগত দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে।

বইয়ের আকার ও আনন্দমুখর পরিবেশের তাগিদ

বর্তমান পাঠ্যপুস্তকের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান টেক্সটবুকের আকার ও উপস্থাপনা শিশুদের মনস্তত্ত্বের উপযোগী নয়। একটি মাত্র ছয় বছরের শিশুর হাতে বড় আকারের বই তুলে দিলে তার মধ্যে শুরুতেই শেখার আগ্রহ কমে যায়। তাই আমাদের ছোট ছোট অধ্যায়ভিত্তিক বই ও আনন্দমুখর শেখার পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সিভিক এডুকেশন (পৌরনীতি ও নাগরিক শিক্ষা), খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চাকেও গুরুত্ব দিতে হবে এবং এসব বিষয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমেই শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের রোডম্যাপ

একটি বড় ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন প্রাথমিক কারিকুলাম ডিজাইন ও পাইলটিং সম্পন্ন করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে ২০export২৮ সালের মধ্যে দেশব্যাপী এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন এই কারিকুলামের মূল ভিত্তি হবে চারটি— ভাষা শিক্ষা, গণিত, সিভিক এডুকেশন এবং খেলাধুলা ও সংস্কৃতি।

তিনি আরও বলেন, নতুন কারিকুলামের আলোকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, যুগোপযোগী টেক্সটবুক প্রণয়ন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও নতুন করে পুনর্বিন্যাস করা হবে। ভবিষ্যতে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থাপনা ও ভেতরের পরিবেশ শিশুদের শেখার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি কাজের একমাত্র মাপকাঠি হবে ‘লার্নিং আউটকাম’ বা শিক্ষার্থীরা আসলে কী শিখল তা নিশ্চিত করা।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), ময়মনসিংহের মহাপরিচালক ফরিদ আহ্‌মদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন:

  • শাহীনা ফেরদৌসী: মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
  • দেবব্রত চক্রবর্তী: মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব), উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।

এছাড়াও সভায় নেপ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক ও দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাঁদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *