তামাক ও ধূমপান স্মার্টনেস নয়, এটি স্নায়ুতন্ত্রের বিষ: ময়মনসিংহে বিভাগীয় তামাক বিরোধী সেমিনার
রাশেদ আহমেদ নিসর্গ, ময়মনসিংহ

তামাকের ভয়াবহতা নিরূপণ এবং এর সমাধানে করণীয় নির্ধারণে ময়মনসিংহে বিভাগীয় পর্যায়ে তামাক বিরোধী সেমিনার-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) নগরীর জেলা পরিষদ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আয়োজনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন:
- কাজী জিয়াউল বাসেত: অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক)।
- প্রদীপ কুমার সাহা: বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)।
- মোঃ সাইফুর রহমান: জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ। এছাড়াও রেঞ্জ ডিআইজির প্রতিনিধি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংবাদকর্মীরা সেমিনারে অংশ নেন।
তামাকের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভয়াবহ তথ্য
সেমিনারে স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক জানান, তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য (জর্দা, গুল, বিড়ি, সিগারেট) সবই মাদক। এতে প্রায় সাত হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। তামাকের ধোঁয়ায় থাকা ‘নিউরোটক্সিন’ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের জন্য সরাসরি বিষ। নিকোটিন রক্তে মিশে সাময়িক ভালো লাগা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ও মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি করে। উল্লেখ্য, করোনা মহামারীতে অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের মৃত্যুর হার ছিল প্রায় তিনগুণ।
পরিবেশ ও কৃষিতে তামাকের আঘাত
সেমিনারে বক্তারা জানান, ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর ও নেত্রকোণায় বর্তমানে ৪৭ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। তামাক চাষে ব্যবহৃত অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক জমির উর্বরতা নষ্ট করছে এবং জলাশয়ের মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে বিষ প্রবেশ করাচ্ছে। এমনকি সিগারেটের ফিল্টার (সেলুলোজ অ্যাসিটেট) বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ বর্জ্য ও দূষক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আইনি কড়াকড়ি ও সচেতনতা
সভায় জানানো হয়, পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ এবং আইন অমান্য করলে দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বক্তারা দাবি করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট দোকানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।
সভাপতির আহ্বান
বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী বলেন, “ধূমপান কোনো স্মার্টনেস নয়। তামাকের উৎপাদন ও বিপণন হঠাৎ বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সচেতন হতে হবে। পরিবারই হচ্ছে সন্তানের প্রথম শিক্ষালয়, তাই সেখান থেকেই তামাক বিরোধী মূল্যবোধ তৈরি করতে হবে।” তিনি টিনেজ বয়সে শিশুদের তামাকের হাত থেকে রক্ষা করতে স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক পোস্টার ও পাঠদান চালুর ওপর জোর দেন।
