দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর ব্যবসায়ী শামীমকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যা
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নোয়াখালীর প্রবাসী ব্যবসায়ী আবু নাছের শামীম (৫০) নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) বিকেল ৫টার দিকে দেশটির জোহানেসবার্গের পার্শ্ববর্তী বারা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পরিচয় ও সংগ্রামী জীবন
নিহত আবু নাছের শামীম নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকার গনু সারেং বাড়ির মৃত আবদুর রশিদ মিয়ার ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক ছিলেন। জীবিকার তাগিদে ২০০৭ সালে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেখানে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন এই সংগ্রামী প্রবাসী।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও নেপথ্য কারণ
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি দোকান বিক্রিকে কেন্দ্র করে জনৈক ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে শামীমের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় তিনি দোকানে বুলেটপ্রুফ গ্লাস স্থাপন এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীও নিয়োগ করেছিলেন।
ঘটনার দিন বিকেলে দোকানের সামনে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী শামীমের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে কাছ থেকে পরপর ৬-৭ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের আর্তনাদ ও মরদেহ ফেরানোর দাবি
নিহতের বড় ছেলে আবু রাফসান পিয়াস এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বাবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে তিনি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
শামীমের এমন নৃশংস মৃত্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশটিতে পুনরায় বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
