আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ তিন যুগ: সেতু না হওয়ায় দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ
আনিছুর রহমান আইয়ুব, মাদারগঞ্জ (জামালপুর), প্রতিনিধি

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার মতো ‘৩৬ বছর কেটে গেছে, কেউ কথা রাখেনি!’ জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৫নং জোড়খালী ইউনিয়নের চরগোলাবাড়ী গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী ১৫-২০টি গ্রামের মানুষের একটি সেতুর স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। দীর্ঘ তিন যুগেও সেতু নির্মিত না হওয়ায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
শিক্ষা ও কৃষিতে স্থবিরতা
সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ৫নং জাহানারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নদী পার হয়। বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া পারাপারের কোনো উপায় থাকে না, যা মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহনেও কৃষকদের গুনতে হয় অতিরিক্ত খরচ, আর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া হয়ে ওঠে এক বড় চ্যালেঞ্জ।
বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাস
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোটের সময় কেবল আশ্বাসের ফুলঝুরি মেলে। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে কেউ খবর রাখে না। আমাদের বাচ্চারা কাদাপানি ভেঙে স্কুলে যায়, অথচ দেখার কেউ নেই।” ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এসেও মাত্র ৫০০ ফুটের একটি সেতুর জন্য মাইলের পর মাইল বিকল্প পথে ঘুরতে হয় এই অবহেলিত জনপদের মানুষকে।
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
সরকারের ‘গ্রাম হবে শহর’—এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এই সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন চরগোলাবাড়ীবাসী।
