আবু সাঈদ হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজার বিবরণ
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর্যবেক্ষণে জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে নিরস্ত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা ছিল একটি বর্বরোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধ। অপরাধে সংশ্লিষ্টতার মাত্রা অনুযায়ী আদালত এই দণ্ড নির্ধারণ করেছেন:
- মৃত্যুদণ্ড: ২ জন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- যাবজ্জীবন: ৩ জন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
- অন্যান্য সাজা: বাকি ২৫ জন আসামিকে তাদের অপরাধের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
প্রেক্ষাপট ও বিচারিক প্রক্রিয়া
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে বীরত্বপূর্ণভাবে বুক পেতে শহীদ হন আবু সাঈদ। এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন তীব্রতর হয়, যা শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটায়।
গত বছরের ২৬ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করা হলো। মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ৬ জন কারাগারে থাকলেও বাকি ২৪ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।
ন্যায়বিচারের মাইলফলক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম কোনো মামলার রায়। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া শত শত পরিবারের মনে ন্যায়বিচারের আশা সঞ্চারিত হলো এবং এটি বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
