উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জ্বালানি সরবরাহ: সচল হলো বন্ধ থাকা সেচপাম্প
আনিছুর রহমান আইয়ুব, জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে ইরি-বোরো মৌসুমের এই সন্ধিক্ষণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। ফলে জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া সেচপাম্পগুলো আবারও সচল হয়েছে, যা বিড়ম্বনায় পড়া হাজারো কৃষকের মনে আশার আলো জাগিয়েছে।
চৈত্রের খরতাপ ও কৃষকের দুশ্চিন্তা
বর্তমানে বোরো ধানের জমিতে শীষ আসার সময়। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চৈত্রের প্রখর রোদে মাঠ ফেটে চৌচির হওয়ায় সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। কিন্তু মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের অভাবে সেচপাম্পগুলো কয়েকদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম উৎকণ্ঠায় ছিলেন ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকার কৃষকরা। সময়মতো পানি না পেলে কাঙ্ক্ষিত ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
প্রশাসনের সময়োপযোগী পদক্ষেপ
কৃষকদের এই সংকট নিরসনে মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যৌথ উদ্যোগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন পাম্প থেকে ডিজেল সরবরাহ শুরু করেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে কৃষকদের মাঝে জ্বালানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার তৌফিকুল ইসলাম খালেক বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেচপাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে সেচ নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে।”
জামালপুরের বোরো চাষের চিত্র
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদরসহ সাতটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। জেলায় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিতে বর্তমানে সর্বমোট ৩৬ হাজার ডিজেলচালিত এবং ১৯ হাজার ৭০০টি বিদ্যুৎ-চালিত সেচপাম্প সচল রয়েছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের এই তড়িৎ পদক্ষেপে কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, সঠিক সময়ে সেচ নিশ্চিত হওয়ায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।
