চাঁদা না দেওয়ায় ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাট
রাশেদ আহমেদ নিসর্গ, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সৌলগাই গ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় কতিপয় দুর্বৃত্ত এই পৈশাচিক তাণ্ডব চালায়। এতে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মালামালসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
হামলা ও লুটপাটের বিবরণ
ভুক্তভোগী একেএম আব্দুল হেকিম মাস্টার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বেশ কিছুদিন ধরে তাঁদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসীরা হেকিম মাস্টারের বসতবাড়ি ও গোবিন্দপুর বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণ লুট করার পাশাপাশি পুকুরের মাছ এবং খামারের মুরগিও নিয়ে যায়। বর্তমানে পুরো বাড়ি ও দোকান ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
৯৯৯-এ কল করেও মেলেনি প্রতিকার

হামলার সময় ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে সাহায্য চাইলেও গৌরীপুর থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে হেকিম মাস্টারের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বাড়িতে কেবল বৃদ্ধ হেকিম মাস্টার ও কয়েকজন নারী সদস্য অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
মামলা গ্রহণে পুলিশের অনীহা
এই ঘটনায় হেকিম মাস্টারের ছেলে মো. শামসুল আলম বাদী হয়ে আব্দুর রাজ্জাক, নজরুল ইসলাম বাদল, আবুল মাস্টারসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় এজাহার জমা দিলেও পুলিশ তা রেকর্ড করেনি বলে দাবি পরিবারের। এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং তদন্ত ওসির সাথে কথা বলতে বলেন। তবে তদন্ত ওসি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা
সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নিরুপায় হয়ে তারা ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার শরীফ আহমেদ (ইকবাল হোসেন) এমপির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
