স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে ‘মৌসুমী’ নেতাদের দৌড়ঝাঁপ; উপেক্ষিত হওয়ার শঙ্কায় ত্যাগী কর্মীরা

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আসন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকায় ‘মৌসুমী’ নেতাদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর দলের দুঃসময়ে মাঠের বাইরে থাকা এসব নেতার হঠাৎ সক্রিয় হওয়া এবং পদ-পদবি ও মনোনয়নের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠায় স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

‘মৌসুমী’ নেতাদের আধিপত্য ও অতীত ভূমিকা

অভিযোগ উঠেছে, গত দেড় দশকের বেশি সময় যারা দলের সাংগঠনিক কাজে ছিলেন না, কর্মীদের পাশে দাঁড়াননি কিংবা কোনো মামলার আসামি হননি, তাঁরাই এখন দলের সুসময়ে উপজেলা বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হতে মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় কর্মীদের ভাষ্যমতে, এমন অনেক নেতা আছেন যারা অতীতে বিভিন্ন সময় দলের সাথে বেইমানি করেছেন কিংবা ফখরুল ইসলামের মতো দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে বিদেশ চলে গিয়েছিলেন। এখন নির্বাচনের সুসময় দেখে তাঁরা পুনরায় পুনর্বাসনের চেষ্টায় লিপ্ত।

ত্যাগী বনাম প্রবাসী ও বিত্তবান

মাঠের চিত্র বলছে, বর্তমানে প্রবাস ফেরত বিত্তবান ও তথাকথিত ‘আমেরিকান সিটিজেন’ নেতাদের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন রাজপথের লড়াকু সৈনিকেরা। তৃণমূলের অভিযোগ, প্রবাসীদের একটি শক্তিশালী গ্রুপ প্রচার করছে যে দল ও স্থানীয় সংসদ সদস্য তাঁদের নিয়ন্ত্রণে। এমনকি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কমিটিও তাঁদের ইচ্ছায় হবে—এমন গুঞ্জন দিন দিন জোরালো হচ্ছে। বিপরীতে, ত্যাগী নেতাদের জন্য কেবল ‘ঈদ উপহারের মুলা’ ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে বলে অনেক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মফিজদের চাপে মাঠের নেতারা

স্থানীয়রা জানান, বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী অনেক ব্যবসায়ী ও অর্থ যোগানদাতাও এখন নব্য বিএনপি নেতা সেজে ইউনিয়নগুলোতে ঈদ উপহার বিতরণ করছেন। এই ‘মফিজ’ সংস্কৃতির কারণে রাজপথের ত্যাগী নেতাদের দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাঠের নেতা বলেন, “মৌসুমী নেতা ও টাকাওয়ালাদের ঠেলায় ত্যাগীরা এখন কুপোকাত।”

এমপির প্রতি তৃণমূলের আহ্বান

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোম্পানীগঞ্জের তৃণমূল নেতাকর্মীরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা চান, কোনো মৌসুমী নেতা বা সুবিধাবাদী বিত্তবানকে নয়, বরং দলের প্রয়োজনে যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছেন এবং দুঃসময়ে কর্মীদের ছায়া হয়ে ছিলেন, সেই ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হোক। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে বেছে নেওয়া না হলে দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *