হাতিয়ায় তারাবির পর মসজিদের ইমামকে টেনেহিঁচড়ে মারধর; এলাকায় উত্তেজনা
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় তারাবির নামাজ শেষে এক মসজিদের ইমামকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরবগুলা এলাকায় এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ ও কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ইমাম মাওলানা রবিউল হোসাইন গত জাতীয় নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ওই রাজনৈতিক বিরোধের জেরে মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজ শেষে শাহাদাত হোসেন (২৪), রুবেল (২৬), ওসমান, সুমন ও কালা মিরাজসহ একদল যুবক তাঁকে মসজিদ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনে এবং বেদম পিটিয়ে জখম করে।
পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্য
ইমামকে মারধরের বিষয়ে চরকিং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফখরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “যারা এই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে তারা বিএনপির কেউ নয়, বরং এরা আওয়ামী লীগের লোক। নির্বাচনে তারা আমাদের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও তাদের অপকর্মে দলের বদনাম হচ্ছে। আমাদের নেতা মাহবুবের রহমান শামীম ভাইও এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ।”
অন্যদিকে, হাতিয়ার সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো এখন ভিন্ন দলের আশ্রয় নিয়ে পুনরায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এদের গ্রেপ্তার করা।”
পুলিশের বক্তব্য
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
