হাড় নেই, চাপ দেবেন না’—মেডিকেল ছাত্র সেই আকিব কেমন আছেন

চমেক হাসপাতালের শয্যায় মাহাদি জে আকিবফাইল ছবি

ফাহিম আল সামাদ

চট্টগ্রাম

আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১: ৪৫ 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে মাথায় জখম নিয়ে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী মামুন মিয়ার একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, মামুনের মাথায় সাদা ব্যান্ডেজের ওপর লেখা, ‘হাড় নেই, চাপ দেবেন না’। তাঁর মাথার খুলি খুলে ফ্রিজে রেখে দেওয়ায় সতর্কতা হিসেবে লেখা হয় এই বাক্য। চার বছর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী মাহাদি জে আকিবেরও এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে মাথায় মারাত্মক জখম হওয়া ওই শিক্ষার্থীর মাথার হাড়ের এটি অংশ তাঁর পেটের চামড়ার নিচে রেখেছিলেন চিকিৎসকেরা। যার কারণে তাঁর মাথায়ও ব্যান্ডেজ মুড়িয়ে একই বাক্যটি লেখা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী মাহাদি জে আকিব নিজের অসুস্থতা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। এখন তিনি পড়ছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষে। হাসপাতাল থেকে তাঁর বাড়িতে যাওয়া এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বিবরণ মুঠোফোনে প্রথম আলোর কাছে তুলে ধরেন তিনি।

২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারি হয়। ছাত্রলীগের এক পক্ষ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী এবং অপরটি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর সমর্থক ছিল। রাতের ঘটনার জেরে ৩০ অক্টোবর দুপুরে মাহাদি জে আকিবের ওপর হামলা হয়। ঘটনার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় কলেজ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর দুই দফা অস্ত্রোপচার হয় জানিয়ে মাহাদি জে আকিব বলেন, ‘যতটুকু মনে পড়ে, আমার একদিন পর জ্ঞান ফিরেছিল। প্রথম অস্ত্রোপচারের পর বাড়ি চলে এসেছিলাম। তখন (হাসপাতালে) যাওয়া-আসা করার সময় মাথায় খুব ব্যথা হতো।’

আকিব বলেন, ‘আমার সেন্স ভালো ছিল। তবে মাঝেমধ্যে মাথায় ব্যথা করত। প্রায় এক বছর ওষুধপত্র চালিয়েছি। ২০২২ সালের মার্চে আমার মাথায় দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার হয়। এখন স্বাভাবিক আছি, ব্যথাও নেই। আপাতত পরীক্ষা শেষ, তাই কুমিল্লায় বাড়িতেই আছি। বাড়িতে বাবা, মা আর ভাই আছে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে আহত মামুনের মাথায় ‘হাড় নেই, চাপ দেবেন না’ লেখা ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁরও নজরে এসেছে বলে জানান মাহাদি জে আকিব। তিনি বলেন, ‘মামুনের ছবিটা ফেসবুকে দেখেছি। আমার ঘটনার সময়ও একই ধরনের ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল। ছবি দেখে কিছুটা নিজেকে রিলেট করতে পেরেছি। মামুনের বিষয়ে খোঁজখবরও নিয়েছি।’

আকিব জানান, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কিছুদিন বেশ তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব অনুভূত হয়, মাথা ঘোরায়। তাঁর নিজেরও একই অবস্থা হয়েছিল। মাথায় আঘাত কতটা গুরুতর, এর ওপর নির্ভর করছে কত তাড়াতাড়ি মামুন সুস্থ হবেন। আশা করা যায় মামুনও দ্রুত সুস্থ হয়ে তাঁর মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত মামুন মিয়া
ছবি: তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে

গত রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন মিয়ার মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় নগরের পার্কভিউ হাসপাতালে আনা হলে ওই দিন রাতে তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পরই তাঁকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। গত সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়। বুধবার বিকেলে তাঁকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে।

মামুনের অবস্থা সম্পর্কে তাঁর মামা মোহাম্মদ নাজমুল তালুকদার বলেন, মামুন আপাতত তরল খাবার খাচ্ছেন। আশপাশের মানুষকে চিনতে পারছেন। তবে হঠাৎ হঠাৎ কথা গুলিয়ে ফেলছেন। চিকিৎসক বলেছেন, তাঁর স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। মাঝেমধ্যে ব্যথায় মামুন ছটফট করেন বলেও জানান তাঁর মামা নাজমুল।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *