নোয়াখালীতে ৪৮ প্রার্থীর মধ্যে ৩৫ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৫ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় বিধি অনুযায়ী তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

আসনভিত্তিক জামানত বাতিলের চিত্র

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিটি আসনেই সিংহভাগ প্রার্থী ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন:

  • নোয়াখালী-১: ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের জামানত বাতিল।
  • নোয়াখালী-২: ৫ প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের জামানত বাতিল।
  • নোয়াখালী-৩: ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের জামানত বাতিল।
  • নোয়াখালী-৪: ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের জামানত বাতিল।
  • নোয়াখালী-৫: ১২ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনেরই জামানত বাতিল।
  • নোয়াখালী-৬: ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের জামানত বাতিল।

ভিআইপি আসনগুলোতে ভোটের সমীকরণ

নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী): এই আসনে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা মো. ছাইফ উল্যাহ পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩৬ ভোট। এখানে ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় পার্টিসহ ৫ জন জামানত হারিয়েছেন।

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী): বিএনপির জয়নুল আবদিন ফারুক ৮৩ হাজার ৯৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এনসিপি-র সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার (শাপলা কলি) পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫৪ ভোট। এখানে জামানত হারিয়েছেন ২ জন।

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট): সবচেয়ে বেশি ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনই জামানত হারিয়েছেন। এখানে বিএনপির মো. ফখরুল ইসলাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. বেলায়েত হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৪৫৩ ভোট।

হাতিয়ায় এনসিপি-র চমক

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া): এই আসনে চমক দেখিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট। এই আসনে সাবেক এমপি ফজলুল আজিমসহ ৮ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সুষ্ঠু ফলাফল রাতেই ঘোষণা করা হয়েছে। যারা প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট পাননি, তাদের জামানত আইন অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *