কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখলেন কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট

বাগেরহাটে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হওয়া স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানের নিথর দেহ শেষবারের মতো কারাফটকে দেখার সুযোগ পেলেন কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে মানবিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে এই সুযোগ দেয়। এর আগে, গত শুক্রবার সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে জুয়েলের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা (২২) ও তাঁদের সন্তান সেজাদ হাসানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কারাফটকে হৃদয়বিদারক দৃশ্য

ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে কারাবন্দী। ৯ মাস বয়সী সন্তান সেজাদকে একবারও কোলে নেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। শনিবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জুয়েল তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের মুখ শেষবারের মতো দেখেন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ আবিদ আহমেদ জানান, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁদের এই দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তবে কোনো সরকারি চিঠিপত্র না থাকায় প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

হত্যা মামলা ও তদন্ত

এই ঘটনায় শনিবার কানিজ সুবর্ণার বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানসিক হতাশা না অন্য কিছু?

নিহত সুবর্ণার পরিবারের দাবি, স্বামী দীর্ঘ দিন কারাবন্দী থাকায় সুবর্ণা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং চরম হতাশায় ভুগছিলেন। সুবর্ণার ভাই শুভ বলেন, “আমার বোন অনেক হতাশ ছিল, তবে এর পেছনে অন্য কিছুও থাকতে পারে।” স্থানীয়দের ধারণা, সুবর্ণা সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন, তবে পুলিশ কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছে না।

দাফন সম্পন্ন

কারাফটকে শেষ দেখা শেষে শনিবার রাত ১১টায় বাগেরহাটের সাবেকডাঙ্গা গ্রামে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মা ও ছেলেকে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকা জুয়েলকে গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *