মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ভয়াবহ তাণ্ডবে তীব্রতর হচ্ছে নদী ভাঙন। বালু দস্যুদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে হুমকির মুখে পড়েছে শত শত পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি। ভিটেমাটি ও জীবিকা রক্ষার দাবিতে আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে স্বপ্ন
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী বালু দস্যুদের সীমাহীন লোভের বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। চোখের সামনে ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধনের মূল দাবিগুলো
- অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ: নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু তোলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
- দস্যুদের বিচার: পরিবেশ ও জানমালের ক্ষতি করায় বালু দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
- নদী শাসন: ভাঙন রোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিং এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।
ভয়াবহ বিপর্যয়ের শঙ্কা
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত এই বালু দস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা না হয়, তবে পুরো এলাকা অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। “নদী বাঁচান, মানুষ বাঁচান”—এই স্লোগান সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শত শত নারী-পুরুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এখন কেবলই প্রশাসনের শুভ বুদ্ধির উদয় এবং নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
