মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বিপণনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত সাড়ে তিন মাসে ধারাবাহিক অভিযানে ৩৩টি মামলা এবং ৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
অভিযানের পরিসংখ্যান ও ফলাফল
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে মোট ১৪টি মোবাইল কোর্ট এবং ৭টি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে:
- সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী ২৪টি মামলা এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী ৯টি মামলা দায়ের করা হয়।
- সর্বমোট ৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
- বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ৬ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া বিনতে কাশেম জানান, অভিযানের সময় অনেক ক্ষেত্রে বালু উত্তোলনের পয়েন্টে কাউকে পাওয়া যায় না এবং স্থানীয়দের কাছ থেকেও পর্যাপ্ত তথ্য মেলে না। ফলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রচলিত আইন ও বিধিমালার বাইরে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।
তদবির ও চাপের ঊর্ধ্বে প্রশাসন
দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবৈধ তদবির, সুপারিশ বা রাজনৈতিক চাপ কখনোই আমলে নেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে না। জনস্বার্থই আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা
এই সমস্যা এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি উপজেলাবাসী, পুলিশ প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেছেন। প্রচারবিমুখতার কারণে ইতিপূর্বে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা না হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
