১ পয়সা খরচ না করে স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম রোধে ‘কৌশলগত ঘোষণা’ ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযান

শেখ মেহেদী হাসান নাদিম

দেশের সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে সেনাবাহিনীর ৬ দফা দাবির প্রেক্ষিতে একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করা জরুরি। রাষ্ট্রের ১ পয়সা খরচ না করে, শুধুমাত্র ভয়ভীতি ও জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জাতীয়ভাবে একটি ‘কঠোর হুঁশিয়ারি’ বা ‘ঘোষণা’ দেওয়াই যথেষ্ট হতে পারে।

প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় ঘোষণাটি যেমন হওয়া উচিত: সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে সারা দেশে একটি সুস্পষ্ট বার্তা প্রচার করতে হবে—

“আগামীকাল থেকে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল এবং বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সরকারি নীতিমালার শতভাগ প্রয়োগ হচ্ছে কিনা, তা যাচাইয়ে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী। ইউনিফর্মের পাশাপাশি সিভিল পোশাকে এবং প্রয়োজনে ‘সাংবাদিক বেশে’ সেনা সদস্য ও সেনা গোয়েন্দারা (DGFI) রোগীদের সাথে মিশে এই গোপন পরিদর্শন চালাবেন। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও নীতিমালার একটি বর্ণের ব্যত্যয় বা কোনো প্রকার অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই ঘোষণার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ও কার্যকারিতা: 

অদৃশ্য নজরদারির ভয়: যখন ঘোষণা দেওয়া হবে যে, পরিদর্শক দল ‘সিভিল পোশাকে’ বা ‘সাংবাদিক বেশে’ আসবে, তখন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী বা দালালরা কাউকেই বিশ্বাস করতে পারবে না। সাধারণ রোগী বা সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটিই গোয়েন্দা হতে পারেন—এই ভীতি থেকে তারা সতর্ক হয়ে যাবে।

স্বয়ংক্রিয় সংশোধন (Auto-Correction): বাস্তবে প্রতিটি হাসপাতালে প্রতিদিন টিম পাঠানোর প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র এই ঘোষণাটি ছড়িয়ে দিলেই ভয়ে হাসপাতালের স্টাফরা ডিউটি টাইমে উপস্থিত থাকবেন এবং দালালরা এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হবে।

নীতিমালার বাস্তবায়ন: বেসরকারি ক্লিনিকগুলো এতদিন যেসব শর্ত মেনে লাইসেন্স নিয়েছে কিন্তু বাস্তবে মানে না, এই ঘোষণার পর তারা তড়িঘড়ি করে নিজেদের মান ঠিক করতে বাধ্য হবে। কারণ, তারা জানবে না কখন কোন ছদ্মবেশে তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে।

জনগণের ক্ষমতায়ন: এই ঘোষণার ফলে সাধারণ মানুষও সাহস পাবে। তারা জানবে যে, ছদ্মবেশে তাদের আশেপাশেই হয়তো প্রশাসনের লোক আছে, ফলে তারাও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শুরু করবে।

 রাষ্ট্রের কোনো অতিরিক্ত অর্থ বা ১ পয়সাও খরচ না করে, শুধুমাত্র এই একটি ‘কৌশলগত ঘোষণা’ স্বাস্থ্যখাতে ভয়ের সংস্কৃতি দূর করে ‘দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি’ চালু করতে পারে। প্রথম সপ্তাহে এই অদৃশ্য অভিযানের ভয়েই যদি অনিয়ম কমে যায়, তবে বাকি ব্যবস্থাগুলো এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *