জানুয়ারিতে ৪-৫টি শৈত্যপ্রবাহের আভাস; হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে কাবু পুরো দেশ। এর মধ্যেই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সদ্য শুরু হওয়া জানুয়ারি মাসে সারাদেশে ৪ থেকে ৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি শৈত্যপ্রবাহ অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, জানুয়ারিতে দু-তিনটি মাঝারি এবং অন্তত একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় সূর্যের আলো ভূ-পৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারছে না, যার ফলে শীতের অনুভূতি আরও প্রবল হচ্ছে। ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার তাপমাত্রা ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল, যা গত ২০ বছরের মধ্যে অন্যতম রেকর্ড।
স্থবির জনজীবন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
শনিবার দেশের ৯টি জেলায় (রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া) মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। তীব্র ঠান্ডায় সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা শিশুদের বাড়তি যত্ন ও পর্যাপ্ত শীতের পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
পরিবহন ও কৃষিতে প্রভাব
ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই চিত্র সড়ক ও নৌপথেও। অন্যদিকে, তীব্র ঠান্ডায় ইরি ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সিরাজগঞ্জসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা।
সহায়তা কার্যক্রম
তীব্র শীত মোকাবিলায় কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলায় সরকারি-বেসরকারিভাবে কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে। পঞ্চগড়ে ইতিমধ্যে ১৬ হাজারেরও বেশি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
