৬৭ কোটি টাকার সেতুর অগ্রগতি মাত্র ৪%! চুক্তি বাতিলের ঘোষণা, দ্রুত চালুর তাগিদ এমপি ফখরুল ইসলামের

​মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ছোট ফেনী নদীর ওপর ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘসূত্রতায় স্থবির হয়ে পড়ায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

​আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় গিয়ে সেতুটির কাজের বাস্তব অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি।

​মাত্র ৪ শতাংশ অগ্রগতি, ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল হচ্ছে

​পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নোয়াখালী জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল সংসদ সদস্যকে জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম ব্যর্থতা ও অপারগতায় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

​তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের অন্তত ৭৮ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি ও কার্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগের আইনগত প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

​সংসদ সদস্যের অসন্তোষ ও কড়া নির্দেশ

​সেতু নির্মাণে এমন চরম অবহেলা ও ধীরগতিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ছোট ফেনী নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মিত হলে চরহাজারীসহ পুরো উপজেলার যাতায়াত ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতিতে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।”

​তিনি এলজিইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে অবিলম্বেই পুনর্নির্বাচনের মাধ্যমে সেতুর অসমাপ্ত কাজ শুরুর কড়া নির্দেশ দেন।

​উপস্থিতিবৃন্দ

​পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী ওলিউর রহমান এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।