১৫ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার লক্ষ্য
রিয়াদুল করিম, ঢাকা।

জুলাই সনদ। প্রতীকী ছবি।
‘জুলাই জাতীয় সনদের’ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কমিশনের লক্ষ্য হলো, আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সব দলের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তৈরি এই সনদের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া।
এ লক্ষ্যে আগামী ৫ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশন আবার আলোচনায় বসবে। এই বৈঠকেই আলোচনা শেষ করে ১০ অক্টোবরের মধ্যে সুপারিশ চূড়ান্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দিতে চায় কমিশন।
মতভিন্নতার কেন্দ্রে বাস্তবায়ন পদ্ধতি
জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত হলেও সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। এই কারণে সনদের চূড়ান্ত রূপ আটকে আছে:
- বিএনপি: দলটি মনে করে, সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের একমাত্র বৈধ পথ হলো জাতীয় সংসদ। আগামী নির্বাচনের পর গঠিত সংসদের মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
- জামায়াতে ইসলামী: জামায়াত চায়, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এর ভিত্তিতেই নির্বাচন হতে হবে। তাদের আশঙ্কা, সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলে বাস্তবায়ন ঝুলে যাবে।
- এনসিপি: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গণপরিষদের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে।
বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ ও কমিশনের পরিকল্পনা
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সুপারিশ চূড়ান্ত করতে চায় কমিশন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব সমন্বয় করে ১০ অক্টোবরের আগেই বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সুপারিশ চূড়ান্ত করতে চায় কমিশন, যেখানে একাধিক বিকল্প পদ্ধতির সুপারিশ করা হবে।
বাস্তবায়নের উপায় হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মোটাদাগে ছয়টি সুপারিশ এসেছিল, যার মধ্যে গণভোট, বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ, গণপরিষদ গঠন এবং সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাওয়ার মতো বিকল্প রয়েছে।
তবে কমিশন সূত্র জানায়, এই রাজনৈতিক মতভিন্নতার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সনদের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, বাস্তবায়ন পদ্ধতি মনমতো না হলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দলের জুলাই সনদে সই না করার আশঙ্কা আছে।
