আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ‘অজ্ঞাত বস্তু’ দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (UKMTO) এই নতুন হামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ঘটনাটির পর ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রথম হামলায় সাময়িক আগুন ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম তেলবাহী ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আক্রমণের শিকার হয়। হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে দ্রুতই নাবিকরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ঘটনায় কোনো হতাহত কিংবা পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে জাহাজটি পুনরায় তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
ওমান উপকূলে দ্বিতীয় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে আঘাত
প্রথম ঘটনার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ওমানের পূর্ব উপকূলীয় সমুদ্রে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে একইভাবে অজ্ঞাত বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়। এই জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে আছেন এবং জাহাজটিতে বড় ধরনের কোনো বিস্ফোরণ বা পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনা দুটির ধরন ও হামলার পেছনে দায়ী পক্ষগুলোকে চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি রুটে অস্থিরতা
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা চালানোর পর সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে হরমুজ প্রণালীতে। বিশ্ব চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ খনিজ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়। চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেহরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও হামলা জোরদার করায় ওয়াশিংটনও আইনি জবাবে ইরানি বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ সৃষ্টি করেছে, যা বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।