স্টারলিংক স্যাটেলাইট নিয়ে পরিবেশগত শঙ্কা: কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
জাহিদ হোসাইন খান।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেয় স্টারলিংকছবি: রয়টার্স।
সারা বিশ্বের রাতের আকাশে কয়েক মাস ধরেই একটি নতুন আলোকিত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে: ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশ করার কারণে জ্বলন্ত উল্কার মতো পুড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, প্রতিদিন গড়ে চারটি স্টারলিংক স্যাটেলাইটসহ বেশ কয়েকটি উপগ্রহ এভাবে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে।
বিজ্ঞানীরা এই পুনঃপ্রবেশের কারণে পরিবেশগত ও বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষায় সংকট তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন। বর্তমানে নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে স্টারলিংকের ছয় হাজারের বেশি সক্রিয় স্যাটেলাইট কাজ করছে।
পুনঃপ্রবেশ ও ক্ষতিকারক কণা
- নকশা: স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যেন পাঁচ বছর পরিচালনার পর কক্ষপথ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পুনঃপ্রবেশের সময় তা সম্পূর্ণরূপে বিচূর্ণ হয়।
- আলোকিত দৃশ্য: বিভিন্ন স্যাটেলাইট কক্ষপথ থেকে সরে আসার সময় বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণের কারণে তা উত্তপ্ত হয়ে বিচূর্ণ হয়ে যায়। তখন উল্কা বা মেরুজ্যোতির মতো উজ্জ্বল আলোর রেখা সৃষ্টি করে।
পরিবেশগত উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, স্যাটেলাইটের এই পুনঃপ্রবেশের হার কক্ষপথে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং পৃথিবীর উচ্চ বায়ুমণ্ডলের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত:
- ওজোনস্তর: স্যাটেলাইট যখন পুড়ে যায়, তখন অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের মতো সূক্ষ্ম ধাতব কণা নির্গত হয়, যা ওজোনস্তরের ক্ষতি করতে পারে।
- মেসোস্ফিয়ারের পরিবর্তন: গবেষকেরা সতর্ক করে বলেন, আরও কয়েক হাজার স্টারলিংক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব স্যাটেলাইট বায়ুমণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ স্তর মেসোস্ফিয়ারের গঠন পরিবর্তন করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোনাথন ম্যাকডাওয়েলের মতে, প্রতিদিন গড়ে চারটি স্টারলিংক স্যাটেলাইট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশ করছে।
