সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় জ্বালানি তেল বিক্রি
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ সহায়তায় একটি ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী ফোর লেন মহাসড়কের রাস্তার মাথা এলাকার মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে শত শত মোটরসাইকেল চালককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই তেলের জন্য শত শত মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করায় চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অস্বস্তি তৈরি হয়। এক পর্যায়ে চালকরা হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে বিকেল ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হলে পুরো এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং শান্তিপূর্ণভাবে তেল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়।
তেল সরবরাহের চিত্র
মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. কামাল হোসেন জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সোমবার গভীর রাতে ডিপো থেকে পাম্পে প্রায় সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল এসে পৌঁছায়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রতি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার (দুই লিটারের কম) পেট্রোল বিক্রি শুরু করা হয়। চালকদের অত্যধিক ভিড় ও হট্টগোলের কারণে প্রথমে পুলিশ এবং পরে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়।
ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আরও একাধিক ডিও (ডিমান্ড অর্ডার) জমা রয়েছে। ডিপো থেকে পরবর্তী সরবরাহ পাওয়া গেলে পুনরায় বিক্রি চালু করা হবে। এদিকে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে সেনবাগসহ আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সাধারণ যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
