স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেসড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (সিবিএমসিবি)-এর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে গুরুতর দলিলিক বৈপরীত্য, কালানুক্রমিক অসামঞ্জস্য এবং তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ না মানার যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছিল, তার প্রেক্ষিতে সিভিল সার্জন কার্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হয়ে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক শেখ মেহেদী হাসান নাদিম।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি এই শুনানিতে অংশ নেন।
উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির শুনানি
সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত এই তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রুহিনা ইয়াসমিন। কমিটিতে সদস্য হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) এবং সদস্য সচিব হিসেবে সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিনিধি কর্মকর্তা।
শুনানিকালে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। এটি ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে গঠিত একটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি, যা নিরপেক্ষভাবে পুরো ঘটনাটি পর্যালোচনা করছে।
লিখিত বক্তব্য ও প্রমাণাদি পেশ
শুনানি পর্বে সাংবাদিক শেখ মেহেদী হাসান নাদিম সিবিএমসিবি-র চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল মান্নান এবং হাসপাতাল পরিচালক ডা. করিম খানের সাথে তাঁর টেলিফোনিক কথোপকথনের সংরক্ষিত অডিও রেকর্ড, কিউআর কোড সংবলিত তথ্য-প্রমাণ এবং ভুক্তভোগী রোগী রমজান মোল্লার বিতর্কিত চিকিৎসা নথি কমিটির কাছে জমা দেন।
তবে শুনানিকালে তদন্ত প্রক্রিয়ার ধরন নিয়ে কিছুটা তর্ক-বিতর্ক ও নীতিগত প্রশ্ন ওঠে:
- রোগী হাজির করার বাধ্যবাধকতা: তদন্ত কমিটি ভুক্তভোগী রোগী ও তাঁর স্বজনদের উপস্থিত করার কথা বললে সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন—একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে নথির দলিলিক বৈপরীত্য তুলে ধরাই তাঁর কাজ; ভুক্তভোগী বা সাক্ষীদের খুঁজে বের করে কমিটির সামনে হাজির করা সরকারি বেতনভুক্ত তদন্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, কোনো ব্যক্তিগত সাংবাদিকের নয়।
- প্রক্রিয়াগত প্রশ্ন: পূর্বে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা সত্ত্বেও কেন ঘটনার দীর্ঘদিন পর শুনানি ডাকা হলো এবং মাঝখানের সময়ে কমিটি কতটুকু কাজ এগোল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
- আমলাতান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতা: মূল দলিলিক অসংগতি ও বায়োপসি রিপোর্টের অমিল (যেমন: মির্ধা প্যাথলজিতে ক্যান্সারের রিপোর্ট পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের পর ক্যান্সার না পাওয়া যাওয়া) নিয়ে গভীরভাবে না ঢুকে কাগজপত্র ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের মতো বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতায় মনোযোগ দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়।
নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস
সাংবাদিক নাদিম তদন্ত কমিটির সদস্যদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অডিও রেকর্ড ও মূল চিকিৎসা নথির আলোকেই তাঁর অভিযোগ গঠিত এবং অতিরিক্ত কোনো নতুন তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এরপর কমিটি তাঁর লিখিত স্বীকারোক্তি গ্রহণ করে এবং নিজ নিজ কর্মকর্তা স্বাক্ষর করে তা অফিশিয়াল নথির অন্তর্ভুক্ত করেন।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা আশ্বাস দিয়ে জানান, অভিযোগের প্রতিটি দিক অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং বিবাদীপক্ষগুলোর বক্তব্য গ্রহণ শেষে সিভিল সার্জনের কাছে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ রিপোর্ট পেশ করা হবে।