সরকারি অনুষ্ঠানে প্রোটোকল ও আসন বিন্যাস নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

একটি উপজেলা অডিটোরিয়ামে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতবিনিময় সভায় অতিথিদের আসন বিন্যাস নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফখরুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
প্রোটোকল বিতর্ক ও ভাইরাল ছবি
অনুষ্ঠান শুরুর আগে সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী প্রধান অতিথিকে মঞ্চের কেন্দ্রীয় আসনে বসানো হয়েছিল। তাঁর পাশে ইউএনও এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসন গ্রহণ করেন। তবে অনুষ্ঠান চলাকালীন কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেখা যায়, এক পর্যায়ে সংসদ সদস্য মঞ্চের এক পাশে বসে আছেন। এই দৃশ্যটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইন্টারনেটে শুরু হয় তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা।
আসন বিন্যাসের প্রচলিত সরকারি নিয়ম
বাংলাদেশে সরকারি অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রোটোকল অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। প্রচলিত বিধান অনুযায়ী:
- প্রধান অতিথি: সর্বদা মঞ্চের কেন্দ্রীয় আসনে বসবেন।
- সভাপতি: প্রধান অতিথির ঠিক ডান পাশের আসনে বসবেন।
- বিশেষ অতিথি: পদমর্যাদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বাম ও ডান পাশে বসবেন।
সংসদ সদস্যরা সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ায়, কোনো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁদের জন্য কেন্দ্রীয় আসন বরাদ্দ থাকা প্রোটোকলের অংশ।
জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সচেতনতা
সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দাবি করেছেন, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ও প্রোটোকল বজায় রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব। আসন বিন্যাসে অসঙ্গতি থাকলে তা সংসদীয় পদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলে কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, অনেকে বিষয়টিকে অনুষ্ঠান পরিচালনার সাময়িক ও স্বাভাবিক চিত্র হিসেবে দেখছেন। তবে সচেতন মহলের মতে, সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে প্রোটোকলের সঠিক প্রতিফলন থাকা একান্ত জরুরি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রোটোকল সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে ভবিষ্যতে আয়োজকদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
