মুছাপুরে নদীভাঙন পরিদর্শনে দুই মন্ত্রী; দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে আশার আলো

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুরসহ চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আর্তনাদ ও নদীভাঙনের কান্না থামানোর উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। আগামী ১০ মার্চ নদীভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে মুছাপুরে আসছেন সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী। এই সফরকে ঘিরে উপকূলীয় জনপদে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন নিঃস্ব হওয়া হাজারো পরিবার।

মন্ত্রীর সফর ও এমপির তৎপরতা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ মার্চ পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি মুছাপুর পরিদর্শনে আসবেন। তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফখরুল ইসলাম-এর বিশেষ প্রচেষ্টায় এই সফর নির্ধারিত হয়েছে। নির্বাচনের পর থেকেই তিনি ভাঙন কবলিত মানুষের ঘরবাড়ি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ শুরু করেন এবং মন্ত্রীর সম্মতি আদায় করেন।

বিপন্ন উপকূল ও জনমানুষের ক্ষোভ

চরপার্বতী, চর হাজারী, মুছাপুর, চরএলাহী ও চরফকিরা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ভাঙনের তাণ্ডবে ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকে আজ নিঃস্ব। বারবার দাবি জানালেও এতদিন কার্যকর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আবদুল আউয়াল মিন্টু-র সাথেও নদীতীর রক্ষা ও স্লুইসগেট নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এবার যেন আশ্বাস নয়, বাস্তব কাজ হয়

মুছাপুরের বাসিন্দারা বলছেন, “আমরা বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস শুনেছি। কিন্তু এবার আমরা আশাবাদী।” তাঁদের দাবি—দলমত নির্বিশেষে সবাই মিলে মন্ত্রীর সামনে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরবেন, যাতে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ ও স্লুইসগেট স্থাপন করা গেলে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও গ্রাম রক্ষা পাবে। ১০ তারিখের এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী সমাধানের স্বপ্ন ডানা মেলছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *