আনিছুর রহমান আনিছ, মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি

ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য এবং সমবায় সমিতির গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের এপিএস ও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবিপ্রবি) সাময়িক বরখাস্ত প্রভাষক ইলিয়াস সানীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনক্রমে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, জামালপুর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অভিযোগের পাহাড়
অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, মির্জা আজমের এপিএস থাকাকালীন ইলিয়াস সানী টিআর, জিআর, এডিবি ও কাবিখা প্রকল্পে ব্যাপক কমিশন বাণিজ্য চালিয়েছেন। মাদারগঞ্জ উপজেলার ২৭টি সমবায় সমিতির মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহকের ৭৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পরিবারজুড়ে সরকারি চাকরি ও নিয়োগ বাণিজ্য
ইলিয়াস সানীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজ পরিবারে সরকারি চাকরির পাহাড় গড়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হওয়ার পাশাপাশি স্ত্রী আফসানা আক্তারকে সেকশন অফিসার পদে চাকরি পাইয়ে দেন। এছাড়া তাঁর বড় ভাই সাইফুল ইসলাম ও ভাইয়ের স্ত্রীও স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করছেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে সানীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তাঁর স্ত্রীকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ
মাদারগঞ্জের মোমেনাবাদ কুমারপাড়া গ্রামে তাঁর পরিবারের জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন সানী। এছাড়া ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের নামে অসংখ্য ফ্ল্যাট, জমি ও দামি গাড়ির সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। শেখ হাসিনা সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জুট গবেষণা কেন্দ্রের মাটি ভরাট কাজেও ঠিকাদারদের কাছ থেকে বড় অংকের কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
দুদকের বক্তব্য
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় জামালপুরের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “ইলিয়াস সানীর দুর্নীতির প্রকাশিত খবর ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অনুসন্ধান শুরু করেছি। তাঁর আয়ের উৎস এবং অর্জিত বিপুল সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর থেকে ইলিয়াস সানী ও তাঁর স্ত্রী আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
