মাঠজুড়ে সোনালী মুকুলের সমারোহ: প্রকৃতিতে বইছে বাম্পার ফলনের আভাস
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে বইছে নতুন প্রাণের স্রোত। স্থানীয় গ্রামগুলোর মাঠের ধারে, বাড়ির আঙিনায় এবং বড় বড় বাগানজুড়ে আমগাছে শোভা পাচ্ছে সোনালী মুকুল। নীল আকাশের পটভূমিতে সবুজ পাতার ফাঁকে ঝলমলে হলুদ মুকুল যেন প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অনিন্দ্য সৌন্দর্যে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়া মিষ্টি সুবাস জানান দিচ্ছে, দরজায় কড়া নাড়ছে রসালো আমের মৌসুম।
অনুকূল আবহাওয়ায় আশাবাদী বাগান মালিকরা
স্থানীয় কৃষক ও বাগান মালিকদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহের অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত রোদ এবং কুয়াশা কম থাকায় এ বছর মুকুলের পরিমাণ গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। নিয়মিত পরিচর্যা, ডালপালা ছাঁটাই এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় গাছগুলোতে সুস্থ ও ঘন মুকুল এসেছে। এতে করে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও তদারকি
উপজেলা কৃষি অফিসার নেরুপা ইয়াসমিন জানান, অত্র এলাকায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ১০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক বাগান রয়েছে। তিনি বলেন, “আবহাওয়া এখন পর্যন্ত বেশ অনুকূলে। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের মুকুল রক্ষা ও পোকামাকড় দমনে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের আশা
কৃষিনির্ভর এই জনপদের মানুষের কাছে আম একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। বাগান মালিকরা জানান, অকাল ঝড় বা শিলাবৃষ্টি না হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই আম দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ভালো ফলন হলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আম্রকাননে পর্যটকদের ভিড়
সকালবেলার সোনালী রোদে ঝলমল করা মুকুল আর হালকা বাতাসে দুলতে থাকা ডালপালা গ্রামীণ পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। এই মোহনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলে রাখতে অনেক দর্শনার্থী বাগান ও বাড়ির আঙিনায় ভিড় করছেন। প্রকৃতির এই সোনালী সাজ যেমন চোখ জুড়াচ্ছে, তেমনি কৃষকদের মনেও জাগাচ্ছে নতুন আশার আলো।
