সাদ্দাম উদ্দিন রাজ,নরসিংদী জেলা

ভালোবাসা যে কোনো ভৌগোলিক সীমানা, ধর্ম কিংবা ভাষার প্রাচীর মানে না—তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের সুমি এবং জার্মানির নাগরিক মাইক (বর্তমানে ওমর ফারুক)। ফেসবুকের মাধ্যমে শুরু হওয়া তাঁদের সেই পরিচয় আজ এক সুখী দাম্পত্য জীবনে রূপ নিয়েছে।
পরিচয় থেকে প্রণয়
২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রথম পরিচয় হয় সুমি ও মাইকের। ভিন্ন দেশ ও ভিন্ন সংস্কৃতির হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের বন্ধন। মাইক শুরুতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী থাকলেও সুমির প্রতি ভালোবাসা এবং ইসলামের জীবনদর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নিজের নতুন নাম রাখেন ওমর ফারুক।
সুখী দাম্পত্য জীবন
২০২০ সালে দুই পরিবারের সম্মতিতে সুমি ও ওমর ফারুক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে এই দম্পতির চার বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে তাঁদের সংসার এখন সুখে-শান্তিতে পরিপূর্ণ।
বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও খাবারে মুগ্ধ ওমর ফারুক
জার্মানি ছেড়ে বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন ওমর ফারুক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আমাকে শুধু একটি দেশ দেয়নি, দিয়েছে এক নতুন পরিচয় ও নতুন জীবন।” তিনি এ দেশের মানুষের আন্তরিকতা এবং সবুজ প্রকৃতির প্রেমে পড়েছেন। বিশেষ করে দেশীয় খাবার—ভাত, মাছ ও ডাল এখন তাঁর নিত্যদিনের পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে।
সুমির অভিব্যক্তি
নিজের সফল ভালোবাসার বিষয়ে সুমি বলেন, “ভালোবাসা যদি সত্য হয়, তাহলে ধর্ম, দেশ কিংবা সংস্কৃতি কোনো বাধা হতে পারে না।” তাঁদের এই জীবনকথা প্রমাণ করে যে, পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধ থাকলে যেকোনো দূরত্ব জয় করা সম্ভব।
