
আজ ৩ সেপ্টেম্বর বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম রোমান্টিক নায়ক উত্তম কুমারের জন্মদিনকোলাজ
সৌমেন্দ্র গোস্বামী
ঢাকা
আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪: ০০
আজ ৩ সেপ্টেম্বর বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম রোমান্টিক নায়ক উত্তম কুমারের জন্মদিন। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। ব্যক্তিজীবনে এই মহানায়ক ভালোবেসেছিলেন গৌরী দেবীকে। পরে তাঁকে বিয়েও করেছিলেন। গৌরীকে নিজের করে পাওয়ার জন্য কী করেছিলেন উত্তম, তাঁর ব্যক্তিজীবনের ভালোবাসার গল্পটি কেমন ছিল? উত্তম কুমারের বই ‘আমার আমি’র সূত্রে জানা যাক সেই কাহিনি।
তখনো সিনেমার কিংবদন্তি উত্তমকুমার হয়ে ওঠেননি তিনি। উপেক্ষা, অবহেলা আর বেকারত্বই ছিল সঙ্গী! অভিনয় করার নেশা আর গান—এটাই যেন ছিল তাঁর অবলম্বন। কিন্তু এভাবে তো আর চলে না। চাকরি দরকার। খুঁজতে খুঁজতে পেয়েও গেলেন জীবনের প্রথম চাকরি। পোর্ট কমিশনার্স অফিসের ক্যাশ ডিপার্টমেন্টে। তেমন ব্যস্ততা নেই। প্রতিদিন সময়মতো অফিসে যান আর ছুটি হলে বাড়িতে এসে বিশ্রাম নেন। বাকিটা সময় অভিনয়ের স্বপ্নে বিভোর থাকেন। তেমনই একদিন অফিস থেকে বাড়িতে ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছেন। হঠাৎ চোখ ছুটে যায় সদর দরজার দিকে। জ্যাঠাতো বোন অন্নপূর্ণার সঙ্গে একজন মেয়েকে দেখতে পান। মেয়েটা দেখতে সুশ্রী। তার চেয়ে মিষ্টি তাঁর হাসি। মেয়েটিকে দেখে মুগ্ধ হন উত্তমকুমার। একেবারে ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’ যাকে বলে।
এরপর অতিবাহিত হলো কয়েকটা দিন। কিন্তু অনেক চেষ্টাচরিত্র করেও মেয়েটার মুখ ভুলতে পারলেন না তিনি। অগত্যা অফিস ছুটি হলে যথাসম্ভব দ্রুত বাড়িতে ফিরে অপেক্ষা করতে শুরু করলেন। আবার যদি মেয়েটা আসে, এই আশা নিয়ে। একদিন সত্যি সত্যি মেয়েটি আবার তাঁদের বাড়িতে এল। অন্নপূর্ণাও সঙ্গে ছিল। তার সঙ্গে কথা বলতে ব্যর্থ হয়ে নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না উত্তম।

সুচিত্রা সেন ও উত্তম কুমার
ইনস্টাগ্রাম
সে চলে যেতেই অন্নপূর্ণাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোকে কে পৌঁছে দিয়ে গেল রে?’ দুষ্টুমির স্বরে বোন পাল্টা প্রশ্ন করল, ‘কে বল দিকিনি?’ ‘ওই যে এখুনি এসেছিল তোর সঙ্গে?’ বললেন উত্তম। ‘ও তো গৌরী… গৌরী রানী গাঙ্গুলী। অ্যাস্টন আর ল্যান্সডাউন রোডের মুখে থাকে।’
ঠিকানা শুনেই উত্তম বুঝে নিলেন, অভিজাত পরিবারের মেয়ে গৌরী। ভাবলেন, তাঁর সঙ্গে গৌরীর কোনো কিছু হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু মন বড় বেসামাল, মনের সঙ্গে কে পারে! তাই পরবর্তীকালে গৌরী আবার যখন তাঁদের বাড়িতে এলেন, অন্নপূর্ণার বলা কথাগুলো মনে পড়ল, ‘গৌরীর সঙ্গে একটি গানের স্কুলে আমার পরিচয়। সে গান ভালোবাসে।’ আর কালক্ষেপণ করলেন না তিনি। নিজের ঘরে হারমোনিয়াম নিয়ে বসে পড়লেন। উদ্দেশ্য গৌরীকে গান শোনানো। গলা খুলে গান করছেন। হৃদয় আকুল হয়ে আছে গৌরীর জন্য। মন বলছে, এই বুঝি গান শুনতে শুনতে গৌরী এসে দাঁড়াবেন দরজার সামনে। কিন্তু তেমন কিছুই ঘটল না। অন্যান্য দিনের মতো অন্নপূর্ণার সঙ্গে আলাপ সেরেই গৌরী চলে গেলেন। কষ্ট পেলেন উত্তম। তাই কিছু সময় পর যখন অন্নপূর্ণা তাঁর কাছে এল, কিছুটা রাগী স্বরেই তিনি বললেন, ‘কী চাই’? ‘গৌরী বলল, ‘তোর দাদার গানের গলাটা তো বেশ।’ ও তোমার সঙ্গে দেখা করবে, আলাপ করবে বলেছে।’ অন্নপূর্ণার কণ্ঠে কথাটা শুনে হৃদয় নেচে উঠল তাঁর।
