বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে কক্সবাজার সৈকতে ১২৭ প্রতিমা বিসর্জন
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। আজ বিকেলেছবি: আব্দুল কুদ্দুস।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে সকাল থেকে বৃষ্টি, উত্তাল সাগর আর গর্জন তোলা ঢেউ সত্ত্বেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আজ বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল চারটার দিকে লাবণী পয়েন্টের বিজয়া মঞ্চসংলগ্ন এলাকা জুড়ে প্রতিমা ঘিরে ভক্তদের আনন্দ-উল্লাস, সিঁদুরখেলা ও শেষ মুহূর্তের প্রার্থনা চলছিল। লাখো পর্যটকও এই উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন।
এক ঘণ্টায় ১২৭ প্রতিমা বিসর্জন
- বিসর্জন: বিকেল পাঁচটায় মন্ত্রপাঠের পর শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। মাত্র এক ঘণ্টায় একে একে ১২৭টি প্রতিমা সাগরে বিসর্জন দেওয়া হয়।
- উৎসব: দুপুরে শহরের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। লাবণী সৈকতে শোভাযাত্রা পৌঁছালে সৈকত কানায় কানায় ভরে যায়।
- অন্যান্য স্থান: জেলায় মোট ৩২১টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈকতে ১২৭টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হলেও, বাকি প্রতিমা চকরিয়ার মাতামুহুরী নদী, কুতুবদিয়া ও টেকনাফ সৈকতে বিসর্জন দেওয়া হয়।

প্রতিমা বিসর্জন উৎসব নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল। আজ দুপুরে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে তল্লাশি চালান সেনা সদস্যরা
ছবি।
কঠোর নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত
বৈরী আবহাওয়া ও বিপুল মানুষের ভিড় সামলাতে সকাল থেকে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, পর্যটন পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী মোতায়েন ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন সম্পন্ন হওয়াকে সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন। বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান কাজল বলেন, লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে কক্সবাজার সম্প্রীতির শহর।

সৈকতজুড়ে ছিল লাখো মানুষের উপস্থিতি। আজ বিকেলে
ছবি।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। রাজশাহীর সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “খোলা সৈকতে একে একে শতাধিক প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য আগে কখনো দেখিনি… সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।” ঢাকার মিজানুর রহমানের মতে, শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন শেষ হওয়া সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
