বিচার চাওয়াই কি কাল হলো? ১৫ বছরের কিশোরীর রক্তে ভেজা মাটি
জাহিদ হাসান রনক

অপরাধীর কাছে অপরাধের বিচার চাওয়া কি তবে এখন মৃত্যুর পরোয়ানা? মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী, যার চোখে ছিল আগামীর স্বপ্ন, তাকে ধর্ষণের পর বিচার চাওয়ার অপরাধে প্রাণ দিতে হলো—এই বর্বরতা আধুনিক সমাজে মেনে নেওয়া অসম্ভব।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও নির্মম পরিণতি
ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর আমেনার পরিবার স্থানীয় প্রভাবশালী মেম্বারের কাছে বিচার চেয়েছিল। কিন্তু মেম্বার বিচারের পরিবর্তে পরিবারটিকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এই বিচারহীনতা আর অবজ্ঞাই নরপিচাশদের আরও সাহসী করে তুলেছে। যার চূড়ান্ত পরিণতি—বাবার সামনে থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা।
মানবতার কোথায় আজ অবস্থান?
এই লোমহর্ষক ঘটনায় আজ সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কোথায় সেইসব মানবাধিকার কর্মী ও প্রগতিশীল সমাজ, যারা ক্ষুদ্র বিষয়েও রাজপথ কাঁপিয়ে তোলে? আজ এক অসহায় বাবার আর্তনাদ কি তাদের কানে পৌঁছাচ্ছে না? যখন একটি কিশোরীর জীবনের চেয়ে প্রভাবশালীদের নামডাক বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন সমাজ হিসেবে আমাদের পরাজয় ঘটে।
অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থার দাবি
আমরা শুধু শোক প্রকাশ করতে চাই না, আমরা বিচার চাই। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা নূরা ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে যে জনপ্রতিনিধি বিচারের নামে প্রহসন করে অপরাধীদের আশ্রয় দিয়েছেন, তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
