​পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে মনোনয়ন-বাণিজ্য বন্ধ হবে: জামায়াত সেক্রেটারি

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১: ১৩

​জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন যে দেশের অধিকাংশ ভোটার নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চান। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে মনোনয়ন-বাণিজ্য বন্ধ হবে।

​আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (এফডিইবি) এই বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদীন।

​মনোনয়ন-বাণিজ্য নিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “দোকান খুলে বসে থাকে দোকানদারের মতো, ‘যাও সিট বিক্রি হবে’। টাকা কে কত দেবে? নিলাম হতে হতে সর্বোচ্চ যে পায়, তারে দিয়ে দেয়। টাকা কিন্তু নেতার পকেটে চলে যায়।”

​তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতি নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তবে তিনি জানান, দেশের প্রধান আট-নয়টি দলই এখন পিআর পদ্ধতি চাচ্ছে। কিছু ভিন্নমত থাকলেও, কেউ শুধু উচ্চকক্ষে (আপার হাউস) এটি চালুর পক্ষে আবার কেউ দুই কক্ষেই (উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ) এর পক্ষে। তিনি বলেন, এটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।

​মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, যদি সংস্কার বাস্তবায়নই না করা হয়, তাহলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এত আলোচনার কী প্রয়োজন ছিল? তিনি একটি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যের মন্তব্য উল্লেখ করে বলেন, “তিনি বলেছেন, ‘এখন আপনারা যা সংস্কার করেন, যা আইন বানান, আমরা ক্ষমতায় গিয়ে সব মুছে দেব’। এর প্রমাণ আছে।”

​পিআর পদ্ধতির বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্য প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে, তা জনগণ ও নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। সংবিধানে তো এটি বলা নেই যে পিআর পদ্ধতিতে হবে না।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, আগামী ২০২৬ সালের নির্বাচন কোনো সংবিধানের আওতায় পড়বে না।

​বৈঠকে এফডিইবির সভাপতি আবদুছ ছাত্তার বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। অন্যদের মধ্যে সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার চেয়ারম্যান এ কে এম রফিকুন্নবী এবং চট্টগ্রাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *