পানের বরজ ভাঙচুরের অভিযোগ ও বাস্তবতায় গরমিল; নথি বলছে ভিন্ন কথা
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

একটি বিতর্কিত জমিকে কেন্দ্র করে পানের বরজ ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরেজমিনে অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি পর্যালোচনায় ভুক্তভোগীর দাবির সাথে বাস্তবতার বিস্তর ফারাক পরিলক্ষিত হচ্ছে।
অভিযোগ ও বাস্তবতার অসঙ্গতি
গত শুক্রবার রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা একটি ফসলি পানের বরজে ক্ষয়ক্ষতি করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি সংবাদে দাবি করা হয়, জমি বিরোধের জেরে ৩০ শতাংশ জমির বরজ ধ্বংস করা হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮-১০ লাখ টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট জমির পরিমাণ বাস্তবে ১৮-২০ শতাংশের বেশি নয়। এছাড়া ১০ লাখ টাকার ক্ষতির দাবিটিও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা নথির পরিবর্তে অনুমাননির্ভর বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
অভিযুক্তদের অবস্থান ও আইনি নথি
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা নিজেদের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই ইতিপূর্বে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন। অনুসন্ধানী দল সংশ্লিষ্ট থানার নথি পর্যালোচনা করে দেখেছে, মো. নুরুল ইসলাম (বাদী) এবং মো. আলা উদ্দিন (বিবাদী)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি বিরোধ চলছে।
সরকারি প্রতিবেদন যা বলছে
বিচারাধীন বিষয়ের ওপর ৪/১২/২০২৫ তারিখের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট মৌজার ৮৮২ নম্বর সিএস খতিয়ানে উভয় পক্ষের দাবি রয়েছে। তবে কাগজপত্র যাচাই করে মো. নুর আলমকে ১৮.৪৪ শতাংশ জমির বৈধ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ১৮.৪৪ শতাংশ জমি বিবাদীর বায়া দখলের হিসেবে ছিল, যা বর্তমানে বিবাদীর দখলে থাকলেও দলিল অনুযায়ী তা বৈধ নয়। বিবাদীকে সংশোধনী আবেদনের সুযোগ দিলেও নির্ধারিত সময়ে তা করা হয়নি।
স্থানীয়দের বক্তব্য
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, এই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বাদীর প্রায় ১৮ শতাংশ জমির প্রাপ্যতা থাকলেও তা এখনো বিবাদীর দখলে রয়েছে। পানের বরজ ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, “কে বা কারা করেছে তা দেখিনি, তবে বিরোধের জেরে একে অপরকে দোষারোপ করছে।”
পুলিশের অবস্থান ও নিরাপত্তা শঙ্কা
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট থানার ওসি (তদন্ত) পুনরায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে বাদীপক্ষ দাবি করেছে, ভিডিও ফুটেজে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং মিথ্যা অভিযোগ তুলে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে, যা তাদের নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চরপার্বতীর এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ভূমি বিরোধ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে। সংবাদে প্রকাশিত অভিযোগের সাথে দাপ্তরিক নথি ও বাস্তব পরিস্থিতির স্পষ্ট পার্থক্য বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। একটি নিরপেক্ষ তদন্তই পারে এই বিরোধের ন্যায়সংগত সমাধান দিতে।
