ধরলা নদীর ওপর ‘বাংটুর ঘাটে’ সেতুর দাবিতে বিশাল মানববন্ধন
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থেকে জেলা সদরে যাতায়াতের পথে ধরলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দুই উপজেলার সহস্রাধিক মানুষ। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলার সংযোগস্থল ‘বাংটুর ঘাটে’ এই বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও প্রাণের দাবি
স্থানীয়রা জানান, বাংটুর ঘাটে একটি সেতু না থাকায় ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও সদর উপজেলার প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষকে চরম যাতায়াত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি—অবিলম্বে বাংটুর ঘাটে সেতু নির্মাণ করে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটানো হোক। মানববন্ধনে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়ন ও ফুলবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ নেন।
বক্তাদের ক্ষোভ ও যুক্তি
হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা বলেন, “নেতা আসে, নেতা যায়; সরকার আসে, সরকার যায়—কিন্তু বাংটুর ঘাটের উন্নয়নে কেউ কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। এই সেতুটি আমাদের অধিকার।”
বিশিষ্ট সমাজসেবক সাইফুর রহমান বলেন, “আমাদের এলাকায় কোনো গর্ভবতী বা জরুরি রোগী থাকলে তাকে সদর হাসপাতালে নিতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ ঘুরে বড়বাড়ী হয়ে যেতে হয়। অথচ সেতু থাকলে খুব সহজেই অল্প সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হতো। এতে সময় ও অর্থ দুটিরই সাশ্রয় হবে।”
অন্যান্য বক্তারা বলেন, বাংটুর ঘাটে সেতু নির্মিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং দুই উপজেলার মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
মানববন্ধনে হলোখানা ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উলিপুর উপজেলার ইসলামী সহকারী কর্মকর্তা ইউনুস আলী, মুসল্লিপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার নুরুজ্জামান মিয়া, সমাজসেবক সাইফুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বার্থে সরকার দ্রুত এই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
