থামছে না স্ত্রী ও ৪ সন্তানের আহাজারি; সৌদি আরবে বজ্রপাতে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

প্রদীপ কুমার সরকার,(হোসেনপুর), কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

সৌদি আরবে কর্মস্থলে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের এক প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত মো. রাসেল মিয়া (৪১) হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মাটিকাটা শ্রমিক লিয়াকত আলীর ছেলে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ভাগ্য বদলাতে গিয়ে ফিরছেন লাশ হয়ে

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাসেল মিয়া নিজ এলাকায় মাটি কাটার কাজ করতেন। দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে স্ত্রী ও চার সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় গত বছরের নভেম্বর মাসে ধার-দেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে ‘মাজা আল আরাবিয়া’ কোম্পানির অধীনে কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু প্রবাস জীবনের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় আকস্মিক বজ্রপাত তাঁর জীবন কেড়ে নিল।

অনিশ্চিত ভবিষ্যতে চার সন্তান ও বৃদ্ধ পিতা

রাসেল মিয়ার মৃত্যু সংবাদ দেশে পৌঁছালে ধুলজুরী গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত রাসেলের নিজস্ব কোনো জমি নেই; মাত্র তিন শতক জায়গার ওপর ছোট্ট একটি ঘরেই থাকত তাঁর পরিবার। সংসারে তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী বড় মেয়ে নুসরাত জাহান সাথীর কণ্ঠে এখন কেবলই হাহাকার, “আমাদের ঈদের জামা-কাপড় কে কিনে দেবে? আমরা এখন কীভাবে লেখাপড়া করব?”

স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী। ঋণের টাকা শোধ করা আর সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তা তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। বৃদ্ধ পিতা লিয়াকত আলীও শোকে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন।

মরদেহ ফিরিয়ে আনার দাবি

হোসেনপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মিছবাহ উদ্দিন মানিক এবং প্রতিবেশীরা রাসেলের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মরদেহে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *