তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ হাইকোর্টের

হাইকোর্টফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:০০
হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে আদালত সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুসারে তিন মাসের মধ্যে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করেছেন, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৯৭২ সালের সংবিধান পুনর্বহাল
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তি এবং ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, অর্থাৎ কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুর করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।
১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে, পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা প্রযুক্ত হবে’—এই বাক্যটি যুক্ত করা হয়।
হাইকোর্ট তার রায়ে ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর ৩৯ ধারা এবং ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর ১৯ ধারা, যা ১১৬ অনুচ্ছেদকে সংশোধন করেছিল, সেগুলোকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বাতিল করেছেন। এর ফলে ১৯৭২ সালের মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল ও কার্যকর হলো।
এছাড়া, আদালত ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট
বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী রিট আবেদন করেন।
এর প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয় যে, কেন সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং কেন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে না।
আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন, এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান শুনানিতে অংশ নেন। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূইয়া এবং ইন্টারভেনার হিসেবে আহসানুল করিমও শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
