ট্রাম্পের বাগরাম দাবি: বিরোধিতা করছে ভারত-পাকিস্তানসহ প্রতিবেশীরা

রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘মস্কো ফরম্যাট কনসালটেশন’–এর বৈঠকে যোগ দেওয়া বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা। ৭ অক্টোবর ২০২৫, মস্কো
ছবি: রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানের কৌশলগত বাগরাম বিমানঘাঁটি আবার দখলে নিতে চান বলে স্পষ্ট দাবি করার পর এর তীব্র বিরোধিতা করেছে রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরানসহ আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলো।
তালেবান প্রত্যাশিতভাবেই ট্রাম্পের এ দাবিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং জোর দিয়ে বলেছে, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই’ আফগানরা এ ঘাঁটি কোনো তৃতীয় দেশের হাতে তুলে দেবে না।

মার্কিন সৈন্যরা চলে যাওয়ার পর বাগরাম বিমানঘাঁটিতে পার্ক করা গাড়ি দেখা যাচ্ছে। ৫ জুলাই ২০২১, আফগানিস্তানের পারওয়ান প্রদেশ
ছবি: রয়টার্স।
প্রতিবেশীদের অভূতপূর্ব ঐক্য
ট্রাম্পের দাবির দুই দিন পর, গত মঙ্গলবার মস্কোতে আফগানিস্তানের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে এক অভূতপূর্ব সমর্থন পেয়েছে তালেবান। এই দেশগুলোর মধ্যে ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে খুব কমই মতের মিল আছে।
- বৈঠক: চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তানের কর্মকর্তারা তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নেন।
- যৌথ বিবৃতি: বৈঠকে তাঁরা আফগানিস্তানে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের যেকোনো চেষ্টার কঠোর বিরোধিতা করেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই চেষ্টা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থ রক্ষা করবে না।
ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদের (আইএসএসআই) গবেষক তৈমুর খানের মতে, এই দেশগুলোর সর্বসম্মত অবস্থান প্রমাণ করছে, আফগান বিষয়গুলো ‘আঞ্চলিক বিষয়’, যা বাইরে থেকে পরিচালনার বিষয় নয়।

বাগরাম বিমানঘাঁটিতে এক আফগান সৈন্য পাহারা দিচ্ছেন। ৫ জুলাই ২০২১, আফগানিস্তানের পারওয়ান প্রদেশ
ছবি: রয়টার্স।
প্রতিবেশীরা কেন বিরোধিতা করছে?
আফগানিস্তানের প্রতিবেশীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্বার্থের সংঘাত থাকলেও তারা বাগরামে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতা করছে কারণ:
- আঞ্চলিক প্রভাব: ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছে। তারা এই অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী প্রত্যাহারে তৈরি হওয়া শূন্যতা নিজেরাই পূরণ করতে চায়।
- নিরাপত্তা উদ্বেগ: মধ্য এশিয়ার দেশগুলো (যেমন উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান) ভয় পাচ্ছে, বাগরামে মার্কিন সামরিক বাহিনী ফিরে এলে সহিংস গোষ্ঠীগুলো তাদের মাটি ব্যবহার করতে পারে এবং আফগানিস্তানের সহিংসতা তাদের ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- ভূকৌশলগত ভারসাম্য: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ইরান আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি চাইবে না। অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীনও এই অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব দেখতে আগ্রহী নয়।
- কৌশলগত গুরুত্ব: কাবুলের ৪৪ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত বাগরাম ঘাঁটি আফগানিস্তানের কয়েকটি জায়গার মধ্যে অন্যতম, যা বড় সামরিক বিমান ও অস্ত্রবাহী উড়োজাহাজের ওঠা–নামার জন্য উপযুক্ত। অর্ধশতাব্দী ধরে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান হয়ে উঠেছিল।
নিউ লাইনস ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসির সিনিয়র ডিরেক্টর কামরান বোখারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভূকৌশল হচ্ছে সামরিক সংকোচন এবং ওয়াশিংটনে নতুন করে এমন কোনো সামরিক প্রতিশ্রুতির আগ্রহ নেই। তবে মস্কো বৈঠক রাশিয়ার জন্য মধ্য এশিয়ায় তার প্রভাব তুলে ধরার একটি সুযোগ ছিল।
