জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় অগ্রগতি: সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস

স্টাফ রিপোর্টার

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং চড়া মূল্যের আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর কার্যক্রমে গতি এসেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ৩২টি নতুন কূপ খননকাজ সম্পন্ন করেছে। এসব কূপ থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

​লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবায়িত কূপের বিবরণ

​২০৩১ সালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যহারে বাড়াতে মোট ১৫০টি কূপ খননের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া ৩২টি কূপের মধ্যে রয়েছে:

  • ​সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল): ১৪টি কূপ (বিয়ানীবাজার-১ ও ২, কৈলাশটিলা-১, ২, ৭ ও ৮, রশিদপুর-৩, ৫, ১১ ও ২ এবং সিলেট-৭, ১০, ১১ ও ১০ এক্স)।
  • ​বাপেক্স: ১১টি কূপ (টবগি-১, শ্রীকাইল নর্থ-১, শরীয়তপুর-১, ভোলা নর্থ-২, ইলিশা-১, সুন্দলপুর-৩, বেগমগঞ্জ-৪ ওয়েস্ট, জামালপুর-১, শ্রীকাইল-৫, সেমুতাং-৬ ও রূপগঞ্জ-১)।
  • ​বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল): ৭টি কূপ (তিতাস-১৪, ১৬, ২৪ ও ২৮, হবিগঞ্জ-৫, বাখরাবাদ-৭ এবং কামতা-২)।

​পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ-৫ কূপে আশানুরূপের চেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়ায় বর্তমানে মোট ৩২টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে পাইপলাইন-সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে উৎপাদন সক্ষমতার পুরো অংশটি এই মুহূর্তে গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

​চলমান প্রকল্প ও পাইপলাইনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

​পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে বর্তমানে আরও সাতটি কূপের (রশিদপুর-১৩, সুন্দলপুর-১ ও ৪, তিতাস-২৯ ও ৩১, ভোলা নর্থ এবং বাখরাবাদ-৬) খননকাজ জোরেশোরে চলছে। আগামী জানুয়ারি নাগাদ এগুলোর কাজ শেষ হলে দৈনিক আরও প্রায় ৯৬ এমএমসিএফ গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ১৯টি প্রকল্প চলমান থাকা অবস্থায় আরও ৯টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যার আওতায় আরও ৩১টি কূপ খনন করা হবে।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের পাশাপাশি তা সঠিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টের মতো অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান বাজারে যেখানে গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফ—সেখানে সরবরাহ রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ (যার মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ এবং এলএনজি থেকে ১ হাজার এমএমসিএফ)।

​পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানান, অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থলভাগের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য ২৬টি অফশোর ব্লক উন্মুক্ত করা হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি এবং পরবর্তী সময়ে ২০৩১-৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খননের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হলে দেশের জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা বহুলাংশে কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।