জামালপুরে আওয়ামী লীগের ঘাটি, ভোটের মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের ‘মরণপণ’ লড়াই

আনিছুর রহমান আইয়ুব, জামালপুর প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামালপুর জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আওয়ামী লীগ বিহীন এক নির্বাচনের মুখোমুখি জেলাটি। একসময়ের ‘আওয়ামী লীগের ঘাটি’ হিসেবে পরিচিত এই জেলা এখন বিএনপির পুনরুদ্ধার এবং জামায়াতে ইসলামীর উত্থানের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। জেলার ৫টি আসনেই মূলত ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

একনজরে জামালপুরের ৫ আসনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ও সমীকরণ

আসন ও নির্বাচনী এলাকামূল প্রতিদ্বন্দ্বী (বিএনপি)মূল প্রতিদ্বন্দ্বী (জামায়াত)অন্যান্য শক্তিশালী প্রার্থীসমীকরণ
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ)এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতঅ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদীআব্দুর রউফ তালুকদার (হাতপাখা)ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
জামালপুর-২ (ইসলামপুর)সুলতান মাহমুদ বাবুড. ছামিউল হক ফারুকীঅর্নব ওয়ারেস খান (ঘোড়া)বিএনপির কোন্দল জামায়াতকে সুবিধাজনক অবস্থায় রেখেছে।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ)মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলমাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদীসাদিকুর রহমান শুভ (স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী)বিএনপির একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী এখানে বড় ফ্যাক্টর।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী)ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমঅ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়ালএকক প্রার্থী হিসেবে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে।
জামালপুর-৫ (সদর)অ্যাড শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনমাওলানা মো. আব্দুস সাত্তারসৈয়দ ইউনুছ আহাম্মদ (হাতপাখা)মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে বিএনপি-জামায়াত কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না।

নির্বাচনী মাঠের মূল পয়েন্টগুলো:

  • বিএনপির আধিপত্য ও পুনরুদ্ধার: ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রায় সমানে সমান ছিল। আওয়ামী লীগ নিষ্ক্রিয় থাকায় বিএনপি তাদের হারানো আসনগুলো ফিরে পেতে মরিয়া।
  • জামায়াতে ইসলামীর উত্থান: এবারের নির্বাচনে জামায়াত একক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে জামালপুর-২ ও জামালপুর-৫ আসনে তাদের প্রার্থীরা ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
  • আওয়ামী লীগের নীরব ভোট: ৫টি আসনেই আওয়ামী লীগের একটি বিশাল ‘ভোট ব্যাংক’ রয়েছে। এই ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে ঝুঁকেন, তার ওপরই নির্ভর করছে চূড়ান্ত ফলাফল।
  • তৃতীয় শক্তির প্রভাব: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কিছু আসনে বড় ভোট ব্যাংক নিজেদের দখলে রেখেছেন, যা বড় দলগুলোর জয়-পরাজয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

নেতাদের ভাষ্য

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি জানান, ১৭ বছরের বঞ্চনার জবাব মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে দেবে। অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, সাধারণ মানুষ সৎ ও যোগ্য প্রার্থী খুঁজছে, যা জামায়াতের পক্ষে নীরব বিপ্লব ঘটাতে পারে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *