চাটখিলে ১৮ মাস পর কবর থেকে ইমতিয়াজের মরদেহ উত্তোলন

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

আদালতের নির্দেশ ও হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থে দীর্ঘ ১৮ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার যুবক ইমতিয়াজের মরদেহ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে চাটখিল উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

নিহত ইমতিয়াজ চাটখিল ৭ নং হাটপুকুরিয়া-ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

পরিবারের দাবি ও মামলা

তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৮ মাস আগে চাটখিল থানা এলাকায় এক উত্তাল পরিস্থিতিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইমতিয়াজ নিহত হন। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে গত ২২ মে নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নোয়াখালী-১ আসনের সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহিম এবং চাটখিলের সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিনসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই আদালত মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।

ছাত্র আন্দোলনের তীব্র আপত্তি

এদিকে ইমতিয়াজকে ‘শহীদ’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) চাটখিল শাখা তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। সংগঠনের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ইমতিয়াজ কোনো ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন না। তাঁদের দাবি, থানা লুটের সময় লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহারের অসাবধানতায় আত্মঘাতী বুলেটে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ছাত্র নেতারা ইতিমধ্যে বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন এবং অভিযোগ তুলেছেন যে, প্রকৃত আন্দোলনকারী না হয়েও ইমতিয়াজ শহীদের গেজেটভুক্ত হয়ে সরকারি অনুদান নিয়েছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কড়া নিরাপত্তায় মরদেহটি উত্তোলনের পর সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি কি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল নাকি অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনা। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *