চাকসু নির্বাচন: হলের বাইরের ‘অনাবাসিক’ ভোটাররাই মূল ফ্যাক্টর

ঢাকা।

ক্যাম্পাস থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে ষোলশহর রেলস্টেশনের অবস্থান। সেখানে চাকসু নির্বাচনের প্রচারে ব্যস্ত বৈচিত্র্যের ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীরা। গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম নগরেছবি: সৌরভ দাশ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে এবার হলের বাইরে থাকা অর্থাৎ ‘অনাবাসিক’ শিক্ষার্থীরাই মূল ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠবেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে প্রায় ১০ থেকে ১১ হাজার এই অনাবাসিক ভোটারের দিকেই তাকিয়ে আছে সব প্যানেল।

​অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ফজল তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “চাকসু নির্বাচনে ভোট দিতে পারব, এটা ভাবিনি কখনো। পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগে অন্তত একটা বড় ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি।”

সংখ্যায় অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাই বেশি

​চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ২৮ হাজার ৫১৫ জন। এর মধ্যে ১৪টি আবাসিক হলে আসন আছে ৬ হাজার ৩৬৯টি। সব মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পান। বাকি প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের আশপাশের কটেজ ও মেসে এবং ১০ থেকে ১১ হাজার শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করেন।

​এবারের চাকসু নির্বাচনের মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৬ হাজার ৮৪ জন ও ছাত্রী ১১ হাজার ৩২৯ জন। প্রার্থীরা মনে করছেন, এই বিপুল সংখ্যক অনাবাসিক শিক্ষার্থীর ভোট যে প্যানেলে পড়বে, সেই প্যানেলই নির্বাচনে এগিয়ে যাবে।

প্রার্থীদের মনোযোগ এবং শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা

​১৫ অক্টোবর সপ্তম চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী প্রার্থী হয়েছেন এবং প্যানেল হয়েছে ১৩টি। হলের বাইরের এই বিশাল ভোটব্যাংকের মন জয় করতে প্রার্থীরা বেশ সরব।

  • ভিপি প্রার্থীর মন্তব্য: ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি পদে নির্বাচন করছেন সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই হলের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে কাজ করছি। এঁরা ভোট দিতে আসবেন কি না, সেটাই মূল প্রশ্ন। তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারলে নির্বাচনের ফল উল্টে যাবে।
  • ভোটের দিন দুশ্চিন্তা: শহর থেকে নিয়মিত যাতায়াতকারী অনেক শিক্ষার্থী ভোট দিতে আগ্রহী হলেও নিরাপত্তা ও পরিবহন-সংকট নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুশফিকুল কাদের বলেন, ভোটের দিন ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত ভিড় থাকবে। পরিবহন-সংকট হতে পারে, তাই প্রশাসনকে অতিরিক্ত যানবাহনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।
  • পরিবহন ব্যবস্থা: শহর থেকে প্রতিদিন শাটল ট্রেন ১৮ বার চলাচল করে, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, শহরের ভোটাররা ভোটের ফলাফলই পাল্টে দিতে পারেন।

​নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন নিরাপত্তা জোরদার থাকবে এবং শাটল ট্রেন চলবে ঘণ্টায় ঘণ্টায়। শহরের শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে ট্রেনে ক্যাম্পাসে যাওয়ার বা বন্ধুর মেসে রাত কাটানোর পরিকল্পনা করছেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *