গ্যাস সংকট চরমে: বিপর্যস্ত জনজীবন
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দিনের অধিকাংশ সময় বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না, আবার রাতেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে রান্না করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
গৃহিণী ও পেশাজীবীদের চরম ভোগান্তি
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর অধিকাংশ স্থানে গ্যাসের চাপ এতোটাই কমে যায় যে চুলা নিভু নিভু করে জ্বলে। বিশেষ করে কর্মজীবী দম্পতি ও স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের নিয়ে গৃহিণীরা পড়েছেন বিপাকে। সকালে গ্যাস না থাকায় অনেকেই নাস্তা না করেই কাজে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন। লাইনের গ্যাস থাকা সত্ত্বেও বাড়তি খরচ করে সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
বিকল্প হিসেবে মাটির চুলা ও লাকড়ি
পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হওয়ায় অনেক এলাকাবাসী এখন বিকল্প উপায়ে রান্নার চেষ্টা করছেন। অনেককেই বাড়ির ছাদে বা উঠানে মাটির চুলা তৈরি করে কাঠ-খড়ি দিয়ে রান্না করতে দেখা গেছে। এর ফলে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতেও মানুষের ভিড় কয়েক গুণ বেড়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বসুরহাট অফিসের সহকারী প্রকৌশলী আমান উল্যাহ জানান, বর্তমানে সারা দেশেই গ্যাসের সংকট চলছে। ফেনী অঞ্চলের ট্রান্সমিশন লাইনে চাপ কমে যাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
স্থায়ী সমাধানের দাবি
স্থানীয়দের মতে, কোম্পানীগঞ্জের নিজস্ব গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে যে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তার একটি অংশ স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করলে এই সংকট সমাধান সম্ভব। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এই সমস্যা নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
