গাজা ইস্যুতে সেনা পাঠানোর প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

গাজায় ইসরায়েলের দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত আইএসেফ (ISF) বাহিনীতে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও স্লোগান
বিক্ষোভ সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের কণ্ঠে “ইসরাইল মানুষ মারে, জাতিসংঘ কী করে?”, “উগ্রবাদ-জায়নবাদ নিপাত যাক”, এবং “সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলো একসাথে”—এরকম নানা প্রতিবাদী স্লোগান শোনা যায়।
বক্তাদের ভাষ্য
সমাবেশে বক্তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ ধরনের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা বলে অভিহিত করেন।
- মেহেদী হাসান (এসিসিই বিভাগ): তিনি বলেন, “আমেরিকা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ইসরায়েলকে সহায়তা করে আসছে। আমেরিকার কোনো কমিটিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসে না। গাজায় অসংখ্য মানুষ শহীদ হওয়ার পেছনে আমেরিকার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে, তাই তাদের মাধ্যমে প্রকৃত শান্তি সম্ভব নয়।”
- জিহাদুল হক রাফি (ওসেনোগ্রাফি বিভাগ): তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় ফিলিস্তিনের পক্ষে ছিল এবং থাকবে। আমাদের সেনাবাহিনীকে কখনোই নির্যাতিত মুসলিম ভাইদের মুখোমুখি দাঁড় করাতে দেওয়া হবে না। যদি আমাদের সেনাবাহিনীকে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে পাঠানো হয়, তবে দেশের জনতা তা মেনে নেবে না।”
দাবি ও হুঁশিয়ারি
শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানান, মুসলিম উম্মাহর ওপর হামলাকারী শক্তির সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশি সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। তাঁরা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
